সালামের মাহাত্ম্য ও তা সম্প্রসারণ করার বর্ণনা

সালাম

সালামের ফযীলত ও তার প্রসার ঘটানের নির্দেশ

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড় অন্যের ঘরে প্রবেশ করোনা যতক্ষণ না তার বাসিন্দাদের থেকে অনুমতি নাও এবং তাদের সালাম করো।” (সূরা নূরঃ ২৭)

তিনি আরো বলেছেনঃ

“যখন তোমরা নিজেদের ঘরে প্রবেশ কর, নিজেদের লোকদের সালাম করো দৃ’আ হিসেবে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়েছে এবং যা বরকতময় উৎকৃষ্ট।” (সূরা নূরঃ ৬১)

তিনি আরো বলেছেনঃ

“আর যখন কেউ তোমাদের শরয়ী বিধান মোতাবেক সালাম করে, তোমরা ভালো কথায় তাদের তদপেক্ষা সালাম করো অথবা সেই কথাগুলোই বলে দাও।” (সূরা নিসাঃ ৮৬)

তিনি আরো বলেছেনঃ

“ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের খবর কি তোমার কাছে পৌঁছেছে? যখন তারা তার কাছে এল তারপর তাকে সালাম করল। জবাবে তিনিও তাদের সালাম করলেন।” (সূরা আয্‌যারিয়াতঃ ২৪-২৫)

 

৮৪৫. আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞেস করল, কোন কাজ ইসলামে সবচেয়ে ভালো? তিনি বলেনঃ অভুক্তদের আহার করানো এবং সালাম করা চেনা-অচেনা নির্বিশেষে সবাইকে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


৮৪৬. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেনঃ আল্লাহ আদম (আ) কে সৃষ্টি করে বললেনঃ যাও, ফেরেশতাদের ঐ যে দলটি বসে আছে তাদের সালাম করো এবং তারা তোমাকে কি জবাব দেয় তা শুন। তারা যা জবাব দেবে তাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের জবাব। কাজেই আদম (আ) গেলেন (এবং ফেরেশতাদের দলকে সম্বোধন করে) বললেনঃ আসসালামু আলাইকুম (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।  ফেরেশতারা বলল, আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহি (তোমার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রহমতও) তারা ওয়ারাহমাতুল্লাহি বাক্যটি বৃদ্ধি করেছিল।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিয়ায়াত করেছেন।


৮৪৭. আবু উমারা বারাআ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে সাতটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেনঃ (১) রোগীকে দেখতে যাওয়া; (২) জানাযায় শরীক হওয়া; (৩) হাঁচি দানকারীর আলহামদু লিল্লাহ বলার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা; (৪) দুর্বল ও বৃদ্ধকে সাহায্য করা; (৫) মজলুমকে সহায়তা করা; (৬) সালামের প্রচলন করা এবং (৭) শপথ পুরা করা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ ইমাম বুখারীর একটি রিওয়ায়াত থেকে গৃহীত।


৮৪৮. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং পরস্পরকে না ভালোবাসা পর্যন্ত তোমাদের ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন করো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।


৮৪৯. আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ হে লোকেরা! সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাও, (অভুক্তদের) আহার করাও, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদ্ব্যবহার করো এবং যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়ো। তাহলে তোমরা শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।


৮৫০. তুফাইল ইবনে উবাই ইবনে কা’ব (র) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-এর কাছে যাতায়াত করতেন। তিনি ইবনে উমারের সঙ্গে সকাল সকাল বাজারে যেতেন। তিনি বলেন, যখন সকালে আমরা বাজারে যেতাম, যে কোন উঠো দোকানদার, স্থায়ী ব্যবসায়ী, মিসকিন বা যে কোন লোকের পাশ দিয়ে তিনি যেতেন, তাকেই সালাম দিতেন। তুফাইল বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমারের কাছে এলাম। তিনি যথারীতি আমাকে বাজারে নিয়ে যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি বাজারে গিয়ে কি করবেন? কোন জিনিস বেচা-কেনার জন্য আপনি দাঁড়ান না, বাজারের কোন মজলিসেও বসেন না? আমি বলছি, আসুন! আমরা এখানে বসে কিছু কথাবার্তা বলি। ইবনে উমার (রা) বলেন, হে ভুঁড়িওয়ালা (আর তুফাইলের ভুঁড়িটা ছিল বেশ বড়) আমরা সকাল সকাল বাজারে আসি স্রেফ সালাম দেবার উদ্দেশ্যে, যার সাথে দেখা হয় তাকে সালাম করি।

ইমাম মালিক সহীহ সনদ সহকারে এ হাদীসটি তাঁর মুআত্তায় বর্ণনা করেছেন।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?