বাহনের পিঠে চরে ভ্রমণ করার সময় যেসব দোয়া পাঠ করতে হবে

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“আর তৈরি করেছেন তিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুস্পদ প্রাণী যাদের উপর তোমরা সওয়ার হও, যাতে তোমরা তার পিঠে শক্ত হয়ে বসে তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ করবে আর বলবেঃ পাকপবিত্র হচ্ছেন সেই সত্ত্বা যিনি আমাদের জন্য একে অনুগত করে দিয়েছেন। আমাদের প্রতিপালকের কাছে আমাদের যেতে হবে।” (সূরা যুখরুফঃ ১২-১৪)

 

৯৭৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলু্‌ল্লাহ (সা) যখন সফরে যাওয়ার জন্য উটের পিঠে সওয়ার হতেন, তখন তিনবার তাকবীর (আল্লাহ আকবার) বলতেন। তারপর বলতেনঃ “সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবূন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বিররা ওয়াত তাকওয়া ওয়া মিনাল আমালি মা তারদ্বা। আল্লাহুম্মা হাওয়িন আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়াতবি আন্না বু’দাহ। আল্লাহুম্মা আনতাস সা-ইস সাফারি ওয়া কা’বাতিল মানযারি ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহলি ওয়াল ওয়ালাদ।” (পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি অধীন করে দিয়েছেন আমাদের জন্য এটিকে অথচ আমাদের শক্তি ছিল না একে বশীভূত করার। আর আমরা অবশ্যই আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা আপনার কাছে নেকী ও তাকওয়া কামনা করছি এবং সে আমল চাচ্ছি যার প্রতি আপনি সন্তুষ্টি। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরকে আমাদের জন্য সহজ করে দিন এবং এর দূরত্বকে আমাদের জন্য কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! সফরে আপনিই আমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং আমাদের পরিবারের আপনিই অভিভাবক। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই সফরে কষ্ট ও কাঠিন্য থেকে, মর্মান্তিক দৃশ্যের উদ্ভব থেকে এবং নিজেদের ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে ফিরে আসা থেকে।)” আর সফর থেকে ফিরে এসেও তিনি এই একই দু’আ বলতেন। তবে তখন এর ওপর এতটুকু বৃদ্ধি করতেনঃ “আ-য়িবুনা তা-য়িবুনা আবি-দুনা লিরাব্বিনা হা-মিদুনা।” (আমরা প্রত্যাবর্তনকারী নিরাপত্তার সাথে, আমরা তাওবাকারী, আমরা নিজেদের প্রভুর ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী।)  (মুসলিম)


৯৭৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা) যখন সফর করতেন, সফরের কষ্ট ও কাঠিন্য থেকে, খারাপ অবস্থায় ফিরে আসা থেকে, বৃদ্ধির পর ক্ষতি থেকে, মযলুমের বদ দু’আ থেকে এবং পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের খারাপ দৃশ্য দেখা থেকে (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (মুসলিম)


৯৭৫. হযরত আলী ইবন রাবীআহ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা)-এর কাছে হাজির হলাম। আরোহীন করার জন্য তাঁর কাছে একটি সওয়ারী আনা হল। তিনি পা-দানিতে পা রেখে বললেনঃ “বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে শুরু করছি)।  তারপর তার পিঠে সোজা হয়ে চড়ে বললেনঃ “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনীন। ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবূন।” (সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার জন্য, যিনি আমাদের জন্য এটিকে বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা তার শক্তি রাখতাম না। আর অবশ্যই আমরা সবাই আমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে যাবে।) তারপর তিনবার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বললেন। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন তিনবার। তারপর বললেনঃ “সুবহা-নাকা ইন্নী যালামতু নাফসী ফাগফিরলী ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা” -(আপনি পবিত্র মহান, অবশ্যই আমি আমার নিজের ওপর যুলুম করেছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ব্যতীত গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই। তারপর হাসলেন, তাকে বলা হলঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেনঃ “আমি নবী করীম (সা) কে ঠিক এমনটি করতে দেখেছিলাম, যেমন আমি করলাম, তারপর তিনি হাসলেন।” অতঃপর আমি বললাম, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি হাসলেন কেন?” তিনি বললেনঃ “তোমার মহান ও পবিত্র প্রতিপালক নিজের বান্দার প্রতি আনন্দ প্রকাশ করেন যখন সে বলেঃ আমার গুনাহ মাফ করে দিন। সে জানে যে, আমি ব্যতীত গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই।” (আবু দাউদ ও তিরমিযী) ইমাম তিরমিযী বলেন হাদীসটি হাসান। শব্দ গ্রহণে আবূ দাঊদ।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?