ন্যায়বিচারক শাসকের বর্ণনা

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমাদের ন্যয় বিচার ও ইহসানের। (সূরা নাহালঃ ৯০)

তিনি আরো বলেছেনঃ

“তোমরা ইনসাফ কর, নিঃসদ্ধেহে আল্লাহ ইনসাফ কারীদের ভালবাসেন।” (সূরা হুজুরাতঃ ৯)

 

৬৫৯. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেনঃ সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহ সেই কঠিন দিনে তাঁর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দান করবেন যেদিন তাঁর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়াই থাকবে না। তারা হচ্ছেঃ (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক; (২) যে যুবক আল্লাহ তা’আলার ইবাদাতে মশগুল; (৩) যে ব্যক্তির অন্তর মসজিদের সাথে সংযুক্ত থাকে; (৪) যে দুই ব্যক্তি আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে, আল্লাহর জন্যই তারা মিলিত হয় এবং আল্লাহর জন্য পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়; (৫) ঐ লোক যাকে অভিজাত বংশীয় কোন সুন্দরী রমণী আহ্বান করে (খারাপ কাজের) কিন্তু সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি; (৬) ঐ লোক যে গোপনে দান করে, এমনকি তার ডান কি দান করেছে তা বাম হাত জানে না এবং (৭) যে লোক একাকী নিভৃতে আল্লাহকে স্মরণ করে দু’চোখে অশ্রু ঝরায়। (বুখারী)


৬৬০. আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ নিশ্চয় ন্যায়বিচারকগণ আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরে আসন গ্রহণ করবে, যারা তাদের বিচার-ফায়সালার ক্ষেত্রে পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে এবং যেসব দায়দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত করা হয় সে সব বিষয়ে সুবিচার করে। (মুসলিম)


৬৬১. আওফ ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে উত্তম শাসক ও ইমাম তারা যাদেরকে তোমরা ভালোবাস এবং তারাও তোমাদেরকে ভালোবাসে। তোমরা তাদের জন্য দো’য়া কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দো’য়া করে। অপরদিকে তোমাদের মধ্যে মন্দ ও নিকৃষ্ট শাসক তারা যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে, তোমরা তাদের প্রতি অভিসম্পাত কর এবং তারাও তোমাদের প্রতি অভিসম্পত করে। রাবী বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকব না। তিনি বলেনঃ না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে নামায কায়েম করবে। (মুসলিম)


৬৬২. ইয়াদ ইবনে হিমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ জান্নাতের অধিকারী হবে তিন শ্রেণীর লোকঃ (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক, যাকে তাওফিক দান করা হয়েছে (দান খয়রাত করার ও জনগণের কল্যাণ সাধন করার); (২) দয়ার্দ্র হৃদয় ও রহমদিল ব্যক্তি যার অন্তর প্রত্যেক আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অতিশয় কোমল ও নরম এবং (৩) যে ব্যক্তি শরীর ও মনের দিক থেকে পূতপবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী ও পরিবার বেষ্টিত। (মুসলিম)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?