দুঃখ-কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা করা মাকরূহ এবং দ্বীনের মধ্যে ফেত্‌নার আশঙ্কায় তা কামনা করা জায়েযের বর্ণনা

বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা করা নিষেধ তবে দ্বীনি ফিতনার আশঙ্কা করতে পারে

৫৮৫. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে নেক বান্দা হলে বিচিত্র নয় যে, তার নেক কাজের পরিমাণ বেড়ে যাবে। আর যদি সে গুনাহগার হয় তাহলে হয়ত সে তার কৃত পাপের সংশোধনের সুযোগ পাবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ বুখারীর। মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছেঃ আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগেই যেন মৃত্যুর জন্য দো’য়া না করে। কারণ মানুষ যখন মরে যায় তার আমলও বন্ধ হয়ে যায়। মু’মিনের জীবনকাল তার কল্যাণই বৃদ্ধি করে।


৫৮৬. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বিপদে পতিত হওয়ার দরুন মৃত্যু কামনা না করে। সে যদি একান্ত বাধ্য হয়ে কিছু বলতে চায় তাহলে যেন (এরূপ) বলেঃ “হে আল্লাহ! আমাকে ঐ সময় পর্যন্ত জীবিত রাখ, যতক্ষণ আমার জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দান কর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়।”  (বুখারী, মুসলিম)


৫৮৭. কায়েস ইবনে আবু হাযেম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ খাব্বাব ইবনুল আরাত (রা)-কে দেখতে গিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন সাতটি দাগ লাগিয়েছেন। তিনি বললেন, আমাদের সংগীদের যারা ইতিপূর্বেই মৃতুবরণ করেছেন তারা তো চলে গেছেন। দুনিয়া তাদের কোনরূপ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। পক্ষান্তরে আমরা এমন সব জিনিস লাভ করেছি ও অর্জন করেছি যার সংরক্ষণের স্থান মাটি ছাড়া আর কোথাও নেই।* নবী (সা) যদি আমাদের মৃত্যুর কামনা করতে নিষেধ না করতেন তাহলে আমি অবশ্যই তা কামনা করতাম। কায়েস (র) বলেনঃ আমরা আরেকবার তাঁর নিকট গিয়ে দেখি তিনি তার একটি দেয়াল মেরামত করছেন। তখন তিনি বললেন, মুসলমান তার কৃত প্রতিটি কাজের (বা খরচের) জন্য প্রতিদান পেয়ে থাকে, একমাত্র এ মাটি ছাড়া (অর্থাৎ ঘর-বাড়ি নির্মাণ ইত্যাদিতেই কেবল সে প্রতিদান পায় না)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্বৃত করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ বুখারীর।

* অর্থাৎ সোনাদানা ও টাকা পয়সা যা হিফাযাতের জন্য মাটির নিচে রাখতে হয় যাতে চুরি হতে না পারে। ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছেঃ খাব্বাব (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)- এর সাথে থাকাকালীন একটি দিরহামের মালিকও ছিলাম না। আর বর্তমানে আমার নিকট চল্লিশ হাজার দিরহাম মজুদ রয়েছে।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?