উচ্চস্থানে উঠার সময় ভ্রমণকারী ‘আল্লাহু আক্বার’ বলা, উপত্যকায় অবতরণের সময় ‘সুব্‌হানাল্লাহ’ বলা এবং তাক্‌বীর বলার সময় আওয়াজ সুদৃঢ় করার ব্যাপরে বাড়াবাড়ি না করা প্রসঙ্গ

৯৭৬. হযরত জারিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন উপরের দিকে উঠতাম তখন ‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ মহান) বলতাম আর যখন নিচের দিকে নামতাম তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতাম।   (বুখারী)


৯৭৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (সা) ও তাঁর সেনাবাহিনী যখন উঁচু স্থানে চড়তেন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং যখন নিচের দিকে নামতেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতেন। (আবু দাঊদ )


৯৭৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা) হজ্জ বা উমরা থেকে ফেরার পথে যখনই কোন ঢিলা বা উঁচু জায়গায় চড়তেন তিন বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। তারপর বলতেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আ-য়িবুনা তা-য়িবুনা আ-বিদুনা সা-জিদুনা লিরাব্বিনা হা-মিদুন। সাদাকাল্লাহু ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।” (আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনি সব কিছুর ওপর শক্তিমান। আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তওবাকারী, আমরা ইবাদতকারী, আমরা সিজদাকারী, আমরা আমাদের রবের প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সেনাদলকে পরাজিত করেছেন।) (বুখারী ও মুসলিম)

আর মুসলিমের বর্ণনায় আছেঃ “যখন তিনি বড় সেনাদল বা ছোট সেনাদল বা হজ্জ অথবা উমরাহ করে ফিরতেন।”


৯৭৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আরয করলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি সফর করতে মনস্থ করেছি। কাজেই আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেনঃ তুমি অবশ্যই তাকওয়া অবলম্বন কর, আর প্রত্যেক উঁচু জায়গায় (ওঠার সময়) তাকবীর (আল্লাহ আকবার ) বল। লোকটি যখন ফিরে চলল তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! তার দূরত্ব গুটিয়ে দিন এবং সফরকে তার জন্য সহজ করে দিন।” (তিরমিযী )


৯৮০. হযরত আবু মূসা আল আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা এক সফরে নবী করীম (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন কোন গিরিপথে চড়তাম, তখন ‘লা-ইলা-লা ইল্লাল্লাহ’ বলতাম ও তাকবীর বলতাম এবং আমাদের আওয়াজ বুলন্দ হয়ে যেত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলতেনঃ “হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন কর। কারণ তোমরা এমন কোন সত্তাকে (আল্লাহকে) আহবান করছ না যিনি বধির এবং অনুপস্থিত। তিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন, তিনি (সবকিছু) শুনেন এবং অতি নিকটে অবস্থান করেন।” (বুখারী ও মুসলিম)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?