আত্মত্যাগ ও সহানুভূতিশীলতার বর্ণনা

সহানুভূতি ও ত্যাগ তিতিক্ষা

[Note: এ অধ্যায়ের কুরআনের আয়াত গুলো পরে আপডেট করা হবে]

 

৫৬৪. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) -এর কাছে একটি লোক এসে বলল, আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত। নবী (সা) তাঁর এক স্ত্রীর কাছে লোক পাঠালেন। তাঁর স্ত্রী বললেন, শপথ সেই সত্তার, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! আমার নিকট পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। আরেক স্ত্রীর কাছে পাঠালেও তিনিও অনুরূপ জবাব দিলেন, এমনকি একে একে প্রত্যেকে একই রকম জওয়াব দিলেন, বললেন, শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! আমার কাছে পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। নবী (সা) সাহাবীদের বলেনঃ আজ রাতে কে এই লোকের মেহমানদারী করবে? এক আনসারী বলেন, আমি, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তাকে সাথে নিয়ে নিজের ঘরে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মেহমানের যথাযথ খাতির-সমাদর কর। আরেক রিওয়ায়াতে আছেঃ আনসারী তাঁর স্ত্রীকে বললেন, তোমার কাছে (খাবার) কিছু আছে কি? তিনি বললেন, বাচ্চাদের খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই। আনসারী বললেন, বাচ্চাদের কিছু একটা দিয়ে ভুলিয়ে রাখ এবং ওরা সন্ধ্যার খানা চাইলে ওদের ঘুম পাড়িয়ে দিও। আমাদের মেহমান (ও খানা) যখন এসে যাবে, তখন বাতি নিভিয়ে দিও, আর তাকে এটাই বোঝাবে যে, আমরাও খানা খাচ্ছি। তারা সবাই বসে গেলেন। এদিকে মেহমান খানা খেলেন এবং তারা উভয়ে সারারাত উপোস কাটিয়ে দিলেন। পরদিন প্রত্যুষে তিনি নবী (সা)- এর কাছে গেলেন। তখন নবী (সা) বলেনঃ এ রাতে মেহমানের সাথে তোমরা যে আচরণ করেছো, তাতে আল্লাহ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


৫৬৫. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ দু’জনের খাদ্য তিনজনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে, তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছেঃ জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেনঃ একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট, দু’জনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।


৫৬৬. আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (সা) -এর সাথে সফরে ছিলাম। তখন একটি লোক তার সওয়ারীতে চড়ে এসে ডানে ও বাঁয়ে তাকাতে লাগল। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ যার কাছে অতিরিক্ত সওয়ারী আছে, সে যেন তা এমন এক লোককে দান করে যার সওয়ারী নেই। যার কাছে অতিরিক্ত রসদ আছে, সে যেন তা এমন লোককে দান করে যার নিকট কোন রসদ নেই। এভাবে তিনি বিভিন্ন প্রকার মালের নাম উল্লেখ করলেন। তাতে আমাদের মনে হল যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস রাখার আমাদের কারো অধিকার নেই। (মুসলিম)


৫৬৭. সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সা) -এর নিকট একটি (হাতে) বোনা চাদর নিয়ে এসে বলল, আমি নিজ হাতে এই চাদর বুনেছি আপনাকে পরাবার জন্য। নবী (সা) প্রয়োজন অনুভব করে চাদরটি গ্রহণ করলেন। তিনি সেটিকে তহবন্দ হিসাবে পরিধান করে আমাদের নিকট এলেন। এক লোক বলল, এটি আমাকে দিয়ে দিন, কি চমৎকার চাদরটি! তিনি বলেনঃ আচ্ছা। কিছুক্ষণ নবী (সা) মজলিসে বসা ছিলেন, তারপর ফিরে গিয়ে চাদরটি ভাঁজ করে ঐ লোকটিকে পাঠিয়ে দিলেন।  লোকেরা তাকে বলল, তুমি কাজটা ভালো করনি। নবী (সা) তাঁর প্রয়োজনের তাগিদে চাদরটি পরেছিলেন, আর তুমি তা চেয়ে বসলে? অথচ তুমি জান যে, তিনি কোন প্রার্থীকে বঞ্চিত করেন না। সে বলল, আল্লাহর শপথ! আমি এটি পরিধান করার জন্য চাইনি, বরং মৃত্যুর পর আমার কাফন দেয়ার জন্য চেয়েছি। সাহল (রা) বলেন, সেটি তার কাফন হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছিল। (বুখারী)


৫৬৮. আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আল আশ’আরীদের নিয়ম হলঃ জিহাদে তাদের রসদ ফুরিয়ে এলে বা মদীনায় তাদের পরিবার-পরিজনদের খাবার ফুরিয়ে এলে, তারা তাদের নিকট মজুদ অবশিষ্ট খাদ্য সামগ্রী একটি কাপড়ের মধ্যে একত্র করে। তারপর একটি পাত্র দ্বারা তা সকলের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে নেয়। জেনে রাখ, এরা আমার এবং আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত।* (বুখারী, মুসলিম)

* নিজের চাইতে অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া একটি উৎকৃষ্ট গুণ। উদারতার অতি উন্নত ও চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত এটি। নিজে অভুক্ত থেকে অন্যকে দান করা, নিজে কষ্ট স্বীকার করে অন্যকে আরাম দেয়া চাট্টিখানি কথা নয়। বস্তুত এসবই হল সুমহান আদর্শ। এগুলো শুধু কথার কথা নয়। ইতিহাসের কষ্টিপাথরে উত্তীর্ণ সত্য। উপরোক্ত হাদিসসমূহেও তার বর্ণনা সুস্পষ্ট।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?