রসূল (সাঃ)-কে মর্যাদা দেয়া, তাঁকে বিনা প্রয়োজনে এবং বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন ও অবাস্তব ইত্যাদি প্রশ্ন করা পরিত্যাগ করা।

১৫২১. সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় অপরাধী সেই ব্যক্তি যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা পূর্বে হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে গেছে।

[বোখারী পর্ব ৯৬ অধ্যায় ৩ হাদীস নং ৭২৮৯; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৫৮]


১৫২২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন একটি খুতবা দিলেন যেমনটি আমি আর কখনো শুনিনি। তিনি বলিলেন, “আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে তোমরা হাসতে খুব কমই এবং অধিক অধিক করে কাঁদতে”। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম [রাদি.] নিজ নিজ চেহারা আবৃত করে গুনগুন করে কাঁদতে শুরু করিলেন, এরপর এক ব্যক্তি [আবদুল্লাহ ইবনি হুযাইসলামিক ফাউন্ডেশনহ বা অন্য কেউ] বলিল, আমার পিতা কে? রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, “অমুক”।

তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ [আর-বী]

বোখারী পর্ব ৬৫ সূরা [৫] আল-মায়িদাহ অধ্যায় ১২ হাদীস নং ৪৬২১; মুসলিম ৪৩/৩৭, হাঃ ২৩৫৯


১৫২৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একবার লোকজন রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ]-কে নানা প্রশ্ন করিতে লাগল, এমনকি প্রশ্ন করিতে তাঁকে বিরক্ত করে ফেললো। এতে তিনি রাগ করিলেন এবং মিম্বারে আরোহণ করে বললেনঃ আজ তোমরা যত প্রশ্ন করিবে আমি তোমাদের সব প্রশ্নেরই বর্ণনা সহকারে জবাব দিব। এ সময় আমি ডানে ও বামে তাকাতে লাগলাম এবং দেখলাম যে, প্রতিটি লোকই নিজের কাপড় দিয়ে মাথা পেচিয়ে কাঁদছেন। এমন সময় একজন লোক, যাকে লোকের সঙ্গে বিবাদের সময় তার বাপের নাম নিয়ে ডাকা হতো না, সে প্রশ্ন করলোঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল [সাঃআঃ]! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ হুযাইসলামিক ফাউন্ডেশনহ। তখন উমার [রাদি.] বলিতে লাগলেনঃ আমরা আল্লাহ্‌কে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-কে রসূল হিসেবে গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট। আমরা ফিত্‌না থেকে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তখন রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি ভাল মন্দের যে দৃশ্য আজ দেখলাম, তা আর কখনও দেখিনি। জান্নাত ও জাহান্নামের সূরত আমাকে এমন স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে যে, যেন এ দুটি এ দেয়ালের পেছনেই অবস্থিত।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৩৫ হাদীস নং ৬৩৬২; মুসলিম ৪৩/৩৭, হাঃ ২৩৫৯]


১৫২৪. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী [সাঃআঃ]-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছে প্রশ্ন কর। এক ব্যক্তি বলিল, আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হুযাফাহ। আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলিল, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম। তখন উমার[রাদি.] আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]-এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করছি।

[বোখারী পর্ব ৩ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৯২; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৬০]

Was this article helpful?

Related Articles