নাবিজ ততক্ষণ [খাওয়া] বৈধ যতক্ষণ না তা কঠিনভাবে বিকৃত হয় এবং মাদকদ্রব্যে পরিণত হয়।

১৩০৪. সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবু উসায়দ আস্ সাঈদী [রাদি.] শাদী উপলক্ষে নাবী [সাঃআঃ]-কে তার ওয়ালীমায় দাওয়াত করিলেন। তাহাঁর নববধু সেদিন খাদ্য পরিবেশন করছিলেন। সাহ্‌ল বলেন, তোমরা কি জান, সে দিন নাবী [সাঃআঃ]-কে কী পানীয় সরবরাহ করা হয়েছিল? সারারাত ধরে কিছু খেজুর পানির মধ্যে ভিজিয়ে রেখে তা থেকে তৈরি পানীয়। নাবী [সাঃআঃ] যখন খাওয়া শেষ করিলেন, তখন তাঁকে ঐ পানীয়ই পান করিতে দেয়া হয়।

[বোখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ৭২ হাদীস নং ৫১৭৬; মুসলিম ৩৬/৯, হাঃ ২০০৬]


১৩০৫. সাহ্‌ল [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন আবু উসায়দ আস্‌সাঈদী [রাদি.] তাহাঁর ওয়ালীমায় নাবী [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর সাহাবিগণকে দাওয়াত দিলেন, তখন তাহাঁর নববধূ উম্মু উসায়দ ব্যতীত আর কেউ উক্ত খাদ্য প্রস্তুত এবং পরিবেশন করেননি। তিনি একটি পাথরের পাত্রে সারা রাত পানির মধ্যে খেজুর ভিজিয়ে রাখেন। যখন [সাঃআঃ] খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন, তখন সেই তোহফা [সাঃআঃ]-কে পান করান।

[বোখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ৭৮ হাদীস নং ৫১৮২; মুসলিম ৩৬/৯, হাঃ ২০০৬]


১৩০৬. সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে আরবের জনৈকা মহিলার কথা আলোচনা করা হলে, তিনি আবু উসাইদ সাঈদী [রাদি.]-কে আদেশ দিলেন, সেই মহিলার নিকট কাউকে পাঠাতে। তখন তিনি তার নিকট একজনকে পাঠালে সে আসলো এবং সায়িদা গোত্রের দূর্গে অবতরণ করিল। এরপর নাবী [সাঃআঃ] বেরিয়ে এসে তার কাছে গেলেন। নাবী [সাঃআঃ] দূর্গে তার কাছে প্রবেশ করে দেখলেন, একজন মহিলা মাথা ঝুঁকিয়ে বসে আছে। নাবী [সাঃআঃ] যখন তার সঙ্গে কথোপকথন করিলেন, তখন সে বলে উঠল, আমি আপনার থেকে আল্লাহ্‌র নিকট পানাহ চাই। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে পানাহ দিলাম। তখন লোকজন তাকে বলিল, তুমি কি জান ইনি কে? সে উত্তর করলঃ না। তারা বললঃ ইনি তো আল্লাহ্‌র রসূল [সাঃআঃ]। তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসেছিলেন। সে বলিল, এ মর্যাদা থেকে আমি চির বঞ্চিতা। এরপর সেই দিনই নাবী [সাঃআঃ] অগ্রসর হলেন এবং তিনি ও তাহাঁর সহাবীগণ অবশেষে বানী সায়িদার চত্বরে এসে বসে পড়লেন। এরপর বললেনঃ হে সাদ! আমাদের পানি পান করাও। সাহ্‌ল বলেন, তখন আমি তাঁদের জন্য এই পেয়ালাটিই বের করে আনি এবং তা দিয়ে তাঁদের পান করাই। বর্ণনাকারী বলেন, সাহ্‌ল তখন আমাদের কাছে সেই পেয়ালা বের করে আনলে আমরা তাতে করে পানি পান করি। তিনি বলেছেনঃ পরবর্তীকাল উমার ইবনি আবদুল আযীয [রাদি.] তাহাঁর নিকট হইতে সেটি দান হিসাবে পেতে চাইলে, তিনি তাঁকে তা হেবা করে দেন।

[বোখারী পর্ব ৭৪ অধ্যায় ৩০ হাদীস নং ৫৬৩৭; মুসলিম ৩৬/৯, হাঃ ২০০৭]

Was this article helpful?

Related Articles