স্ত্রীর ওপর স্বামীর হকের বিবরণ

স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার

মহান আল্লাহ বলেনঃ

পুরুষেরা মেয়েদের তত্ত্বাবধায়ক— এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের এক দলকে অন্য দলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এ কারণে যে, পুরুষরা তাদের ধন-মাল (স্ত্রীদের জন্য) ব্যায় করে। অতএব, পূণ্যবতী নারীরা আনুগত্যশীল হয়ে থাকে এবং পুরুষদের অবর্তমানে আল্লাহর হেফাজতে তাদের অধিকার সংরক্ষণ করে।’ (সূরা আন নিসাঃ ৩৪)

 

২৮১. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কোন ব্যক্তি যদি তার বিছানায় স্বীয় স্ত্রীকে ডাকে; কিন্তু স্ত্রী তাতে সাড়া না দেয়ায় স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফেরেশতারা ভোর পর্যন্ত তার প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)

বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছেঃ কোন স্ত্রী লোক তার স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে রাত কাটালে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে লানত করতে থাকে। অন্য এক বর্ণনা মতে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে মহান সত্তার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ! কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে স্বীয় বিছানায় ডাকলে সে যদি তাতে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যিনি আসমানে থাকেন তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন।


২৮২. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, স্বামী বাড়িতে উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রীর পক্ষে (নফল) রোযা রাখা বৈধ নয়। তার অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তিকে তার ঘরে অনুমতি দেওয়াও তার (স্ত্রীর) জন্য বৈধ নয়। (বুখারী ও মুসলিম)


২৮৩. হযরত ইবনে উমর (রা)-এর বর্ণনা মতে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা প্রত্যেকেই সংরক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক। তোমাদের প্রত্যেককেই তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমীর বা রাষ্ট্রপ্রধান একজন সংরক্ষক (তাকেও তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে)।   পুরুষ (বা স্বামীর) তার পরিবার-পরিজনের সংরক্ষক। স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের সন্তানদের সংরক্ষক। কাজেই তোমরা প্রত্যেকেই সংরক্ষক (বা পাহারাদার) এবং প্রত্যেককেই তার রক্ষণাবেক্ষন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)


২৮৪. হযরত আবু ‘আলী তালক ইবনে আলী (রা)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্বামী যখন কোন প্রয়োজনে স্ত্রীকে কাছে ডাকে, সে (স্ত্রী) যেন সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে চলে আসে; এমনকি চুলোর ওপর রুটি চাপানো থাকলেও। (তিরমিযী ও নাসাঈ)


২৮৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি যদি কোন ব্যক্তিকে অপর কোন ব্যক্তির সামনে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করার জন্যে। (তিরমিযী)


২৮৬. হযরত উম্মে সালামা (রা)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন স্ত্রী লোক যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী)


২৮৭. হযরত মু’আয ইবনে জাবাল (রা)-এর মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখনই কোন নারী তার স্বামীকে দুনিয়ায় কষ্ট দিতে থাকে, তখনই (জান্নাতে) আয়াতলোচনা হুরদের মধ্যে তার সম্ভাব্য স্ত্রী বলেঃ (হে অভাগীনি! তুমি তাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করুন! তিনি তোমার কাছে একজন মেহমান। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন। (তিরমিযী)


২৮৮. উসামা ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার অনুপস্থিতিতে আমি পুরুষদের জন্য মেয়েদের চাইতে বেশি ক্ষতিকর ফিতনা (বিপর্যয়) আর রেখে যাইনি। (বুখারী ও মুসলিম)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?