সুনির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে বা কোন জন্তুকে লানত বা অভিশাপ দেয়া হারাম

১৫৫২. হযরত আবু যায়েদ ইবনে সাবেত ইবনে দাহহাক আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বাই’আতে রিদওয়ান নামক মহান শপথ অনুষ্ঠানে অংশীদার ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে ইসলাম ব্যতীত অপর মিল্লাত বা ধর্মের মিথ্যা শপথ করে, সে ঐ প্রকারই। যে ব্যক্তি কোন জিনিস দিয়ে আ্ত্নহত্যা করবে তাকে কিয়ামতের দিন ঐ জিনিস দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে। আর মানুষ যে বস্তুর মালিক নয় তাতে তার কোন মানত হয় না। মু’মিন ব্যক্তিদের লানত বা অভিশাপ দেয়া হত্যা করার সমতুল্য। (বুখারী ও মুসলিম)


১৫৫৩. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, “সত্যবাদী মু’মিনের জন্য এটা শোভা পায় না যে, সে অত্যধিক লানতকারী হবে।” (মুসলিম)


১৫৫৪. হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, “অধিক অভিসম্পাতকারীরা কেয়ামতের দিন সুপারিশকারীও হতে পারবে না এবং সাক্ষীও হতে পারবে না।” (মুসলিম)


১৫৫৫. হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, “তোমরা পরস্পরকে আল্লাহর লানত, ক্রোধ ও দোযখ দ্বারা লানত দিও না। (আবু দাঊদ ও তিরমিযী)


১৫৫৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, “মু’মিন ব্যক্তি কখনও ঠাট্টা-বিদ্রূপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী এবং অন্যায় আচরণকারী হতে পারে না।” (তিরমিযী)


১৫৫৭. হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, বান্দা যখন কোন কিছুর উপর লানত করে তখন তা আসমানের দিকে উঠে যায়। কিন্তু আসমানের দরজা সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং তা আবার ডানে বামে ছুটাছুটি করতে থাকে। কিন্তু সেখানেও যদি তা কোন স্থান না পায় তবে যার প্রতি লানত দেয়া হয়েছে সেখানে ফিরে যায়। যদি তা লানতের উপযোগী হয় তবে সেখানে পতিত হয়। অন্যথায় লানতকারীর কাছেই ফিরে যায়। (আবু দাউদ)


১৫৫৮. হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কোন এক সফরে ছিলেন। (আমারও তাঁর সাথে ছিলাম)।   তখন এক আনসারী মহিলা উটনীর পিঠে সওয়ার ছিল সে তার উটনীকে তিরস্কার করছিল আর লানত দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (স) তা শুনে বলছিলেন, উটের পিঠের সামানপত্র নামিয়ে রেখে এটিকে ছেড়ে দাও। এটি এখন অভিশপ্ত । ইমরান (রা) বলেন, আমি এখনও যেন উটনীকে দেখতে পাচ্ছি। তা লোকজনের মাঝে চরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কেউ তার প্রতি দৃষ্টিপাত করছে না। (মুসলিম)


১৫৫৯. আবু বারযা নাদলা ইবনে ওবায়েদ আল-আসলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক যুবতী মহিলা একটি উটনীর পিটে করে ভ্রমণ করেছিল। উটটির পিঠে লোকজনের কিছু মাল সামান ছিল। মেয়েটি হঠাৎ নবী করীম (স)-কে দেখতে পেল। দলের লোকদের কাছে পাহাড়ের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। যুবতী ( উটটিকে দাবড়িয়ে) বলল, হে আল্লাহ! এর উপর অভিশাপ বর্ষণ কর। একথা শুনে নবী করীম (স) বললেন, অভিশপ্ত বা লানত প্রাপ্ত উট আমাদের সাথে যেতে পারে না। (মুসলিম)

ইমাম নববী (রা) বলেনঃ হাদীসটির মর্মার্থ উপলদ্ধি করা কঠিন বলে মনে হয়; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। কারণ এর অর্থ হল, উটটি নিয়ে নবী করীম (স)-এর সাথে সফর করা যাবে না। বাকী তাকে বিক্রি করা, জবাই করা, অন্য সময়ে সফর করা ইত্যাদি সব বৈধ। কেননা এসব তো প্রথম থেকেই বৈধ ছিল। শুধুমাত্র একটি জিনিসকে বাধা দেয়া হয়েছে। কাজেই বাকী সব পূর্বের ন্যায় বৈধ থাকবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?