সফর ইত্যাদিতে নিজ সাথীকে বিদায়কালে পরস্পরের জন্য দোয়া ও উপদেশ দানের বর্ণনা

সফর ইত্যাদির সময় বিদায়কালে পরস্পরের জন্য দু’আ করা ও অসিয়ত করা

[Note: এ অধ্যায়ের কুরআনের আয়াত গুলো পরে আপডেট করা হবে]

 

৭১২. যায়িদ ইবনে আরকাম (রা)-এর হাদীস যা ইতোপূর্বে আহলে বাইতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন অধ্যায়ে উল্লিখিত হয়েছে, তাতে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর লোকদের উপদেশ দিলেন এবং সাওয়াব ও আযাবের ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দিলেন, অতঃপর বললেনঃ হে লোকেরা! জেনে রাখ, আমিও তোমাদের মতই মানুষ।৮৫ অচিরেই আমার রবের পক্ষ থেকে মৃত্যুদূত এসে হাজির হবে এবং আমিও আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে যাব। আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি। একটি হল আল্লাহর কিতাব (কুরআন শরীফ) যার মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে হিদায়াত ও মুক্তির সঠিক পথের দিশা এবং নূর ও আলোকবর্তিকা। তোমরা আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে ধারণ করবে এবং তাঁর বিধানকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে। এরপর তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি লোকদের উদ্বুদ্ধ করলেন এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। তারপর তিনি বলেনঃ দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমার আহলে বাইত (পরিবারের লোকজন)।  আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আমি তোমাদের আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।

ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  আহলে বাইতকে সম্মান করা শীর্ষক অনুচ্ছেদে উদ্ধৃত হাদীসে বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।


৭১৩. আবু সুলাইমান মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট এলাম। আমরা সবাই ছিলাম সমবয়সী যুবক। আমরা বিশদিন যাবৎ তাঁর কাছে অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (সা) ছিলেন অতিশয় রহমদিল ও স্নেহশীল। তিনি ভাবলেন, আপনজনদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য আমরা আগ্রহী। তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, পরিবারে আমরা কাদের ছেড়ে এসেছি এবং তাদের হাল-অবস্থা কি? আমরা সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জানালাম। তিনি বলেনঃ তোমরা ফিরে গিয়ে তোমাদের পরিবার-পরিজনদের সাথে অবস্থান কর, তাদেরকে দীনের তালিম দাও, তার উপর আমল করার জন্য তাদের আদেশ কর এবং নামায পড় এই এই সময়ে। নামাযের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামতি করবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর এক রিওয়ায়াতে আরো বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা নামায পড় যেরূপ আমাকে নামায পড়তে দেখেছ।


৭১৪. উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমরাহ করার জন্য নবী (সা)-এর নিকট অনুমতি চাইলাম। তিনি অনুমতি দিলেন এবং বললেনঃ প্রিয় ভাইটি আমার, তোমার দো’আর সময় আমাদেরকে যেন ভুলো না। তিনি এমন বাক্য উচ্চারণ করলেন, যার বিনিময়ে সমগ্র দুনিয়াটা আমার হয়ে গেলেও তা আমার নিকট আনন্দদায়ক (বিবেচিত) হতো না। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ ভাইয়া! আমাদেরকেও তোমার দো’আয় শরীক রেখো।

ইমাম আবু দাঊদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


৭১৫. সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) ভ্রমণেচ্ছু লোকদের উদ্দেশ্যে বলতেন, ‌আমার নিকটবর্তী হও, যাতে আমি তোমাকে বিদায় দিতে পারি, যেরূপে আমাদের বিদায় দিতেন রাসূলুল্লাহ (সা)।  তিনি আমাদের বিদায় দেয়ার সময় বলতেনঃ “আমি তোমার দ্বীন, তোমার আমানত ও তোমার শেষ আমলকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


৭১৬. আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ খাতমী সাহাবী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন কোন সৈন্যবাহিনী বিদায় দেয়ার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ “আমি তোমাদের দ্বীন, তোমাদের আমানত ও তোমাদের আখেরী আমলসমূহকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি।”

এটি হাসান হাদীস। ইমাম আবু দাঊদ প্রমুখ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


৭১৭. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সা)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যেতে চাই, আমাকে কিছু পাথেয় দিন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তোমাকে আল্লাহভীতির পাথেয় দান করুন। সে বলল, আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করুন। সে বলল, আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বলেনঃ তুমি যেখানেই থাক আল্লাহ তোমার জন্য কল্যাণপ্রাপ্তিকে সহজ করুন।

হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?