শহরবাসীর গ্রামবাসীর পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে দেয়া, গ্রাম্য কাফেলা থেকে প্রথমেই জিনিসপত্র নিয়ে নেয়া, অন্য জনের লেন-দেনের উপর লেনদেন করা এবং অন্য জনের বিয়ের প্রস্তাবের উপর বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হারাম। তবে সে অনুমতি দিলে বা বর্জন করলে ভিন্ন কথা।

১৭৭৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কোন নগরের অধিবাসীকে গ্রাম্য ব্যক্তির কোন বস্তু বিক্রি দিতে বারণ করেছেন। এমনকি যে যদি তার সহোদর ভাই হয় তুবও না। (বুখারী ও মুসলিম)


১৭৭৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, সম্মুখে অগ্রসর হয়ে ব্যবসায়ী কাফেলার কাছ থেকে মাল-পত্র কিনে নিয়ো যেও না; বরং তা বাজারে পৌছতে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)


১৭৭৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, তোমরা সামনে অগ্রসর হয়ে বাণিজ্য কাফেলার নিকট হতে দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করবে না। কোন নগরবাসী কোন গ্রামবাসীর দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি করে দেবে না। তাউস (রা) ইবনে আববাস (রা) কে জিজ্ঞেস করেন, কোন শহরবাসী কোন নগরবাসীর দ্রব্য-সামগ্রী বিক্রি করবে না একথার অর্থ কি? তিনি বললেন, এর অর্থ হল, দালাল হয়ে গ্রামবাসীকে ঠকাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)


১৭৮০. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) নগরের অধিবাসীকে গ্রাম্য ব্যক্তির পক্ষ হয়ে কোন দ্রব্য বিক্রি করতে, ক্রেতাকে ধোঁকা দেয়ার জন্য বস্তুর দাম বৃদ্ধি করে বলতে, একজনের বলা মূল্যের ওপর মূল্য বলতে, একজনের বিয়ের প্রস্তাবের উপর অপরজন প্রস্তাব দিতে এবং কোন নারীর অংশ ভোগ করার জন্য স্বামীর কাছে তার মুসলমান বোনের তালাকের প্রার্থী হতে নিষেধ করেছেন। অপর বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (স) সামনে অগ্রসর ব্যবসায়ী কাফেলার সাথে মিলিত হয়ে মাল ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, মুহাজির ব্যক্তি গ্রাম হতে আগত ক্রেতার জন্য কিছু ক্রয় করতে; কোন নারীকে তার অন্য মুসলমান বোনকে তালাক দেয়ার শর্ত আরোপ করতে এবং ক্রয়ের ইচ্ছা ব্যতীত কোন বস্তুর দর করে মূল্য বৃদ্ধি করতে বা দালালী করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো নিষেধ করেছেন, মূল্য বৃদ্ধি করে ক্রেতাকে ধোঁকা দিতে এবং জন্তুর বাঁটে দুধ আটকে রেখে ক্রেতাকে প্রতারিত করতে। ( বুখারী ও মুসলিম)


১৭৮১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বললেন, তোমাদের একে অপরের ক্রয়ের উপর যেন ক্রয় না করে এবং অনুমতি ছাড়া একজনের বিয়ের প্রস্তাবের উপর অপর জন যেন প্রস্তাব না দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)


১৭৮২. হযরত ওকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, এক ঈমানদার অপর ঈমানদারের ভাই। তাই কোন ঈমানদারের জন্য তার অপর কোন ঈমানদার ভাইয়ের ক্রয়ের উপর ক্রয় বৈধ নয়। তার পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত অপর ভাইয়ের প্রস্তাবের উপর বিয়ের প্রস্তাব দেয়া বৈধ নয় । ( মুসলিম)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?