শরয়ী কারণ ব্যতীত ক্রীতদাস, জীব-জন্তু, স্ত্রীলোক এবং সন্তানদেরকে শিষ্টাচার ও আদব-কায়দার জন্য যতটুকু দরকার তার অতিরিক্ত শাস্তি দেয়া নিষিদ্ধ

সূরা: নিসাঃ ৩৬

[Note: এ অধ্যায়ের কুরআনের আয়াত গুলো পরে আপডেট করা হবে]

১৬০১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। এক স্ত্রীলোক একটি বিড়ালের কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়। সে বিড়ালটিকে একাধারে বেঁধে রাখায় মারা গিয়েছিল। আর ঐ অপরাধে সে দোযখে গমন করেছিল। বেঁধে রাখা অবস্থায় সে বিড়ালটিকে খাদ্য, পানীয় দেয়নি কিংবা পৃথিবীর পোকা মাকড় খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেয়নি। (বুখারী ও মুসলিম)


১৬০২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি কয়েকজন কুরাইশ যুবকের কাছ দিয়ে গমন করছিলেন। তারা একটি পাখিকে চাঁদমারি করার জন্য এক স্থানে বেঁধে রেখেছিল এবং এর প্রতি তীর ছুড়ছিল। তারা পাখির মালিকের সাথে এ বলে চুক্তি করেছিল যে লক্ষ্যভ্রষ্ট তীরসমূহ হবে মালিকের। তারা আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে দেখতে পেয়ে পালিয়ে গেল। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) বললেন, এ কাজ কে করেছে? যে এ কাজ করেছে তার উপর আল্লাহর অভিসস্পাত। যারা কোন প্রাণীকে চাঁদমারির লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করে, রাসূলুল্লাহ (স) তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)


১৬০৩. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কোন জন্তুকে চাঁদ মারির জন্য আবদ্ধ রাখতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)


১৬০৪ হযরত আবু আলী সুয়াইদ মুকরিন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি বনী মুকরিন গোত্রের সাত ব্যক্তির মধ্যে সপ্তম ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে দেখিছি। আমাদের সবার একটি মাত্র সেবক ছিল। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট জন তাকে চপেটাঘাত করেছিল। তাই রাসূলুল্লাহ (স) সেবকটিকে আযাদ করে দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম)


১৬০৫. হযরত আবু মাসউদ বদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার এক গোলামকে চাবুক দিয়ে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ পেছন দিক হতে আওয়াজ শুনতে পেলাম, সাবধান! আবু মাসউদ । রাগে উত্তেজিত থাকায় আমি আওয়াজটা বুঝতে পারলাম না। কাছে আসলে আমি বুঝতে পারলাম তিনি রাসূলুল্লাহ (স)। তিনি তখন বলছেন, সাবধান! আবু মাসউদ! তুমি তোমার গোলামের উপর যতটুকু ক্ষমতার অধিকারী তোমার উপর আল্লাহ তার চেয়েও অধিক ক্ষমতার অধিকারী। আমি বললাম, এরপর আমি আর কখনও কোন গোলামকে প্রহার করব না। (মুসলিম)
অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে আমি দাসত্ব হতে মুক্ত করে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বললেন, যদি তুমি এটা না করতে, দোযখের আগুন আগুন তোমাকে বেষ্টন করে নিত অথবা বলেছেন, আগুন তোমাকে স্পর্শ করত। এসব বর্ণনা ইমাম মুসলিমের।


১৬০৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেন, কোন লোক যদি তার গোলামকে বিনা অপরাধে প্রহার করে অথবা তার মুখে চপেটাঘাত করে তবে তার কাফফারা হল, সে ঐ গোলামকে আযাদ দেয়া। (মুসলিম)


১৬০৭. হযরত হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযাম (রা) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি শামের একটি অঞ্চল দিয়ে অতিক্রমকালে কৃষক সম্প্রদায়ের কিছু ব্যক্তির দেখা পান। তাদের মাথার ওপর তেল ঢেলে রোদে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। হিশাম (রা) জিজ্ঞেস করলেন, এদের এ অবস্থা কেন? তারা বলল, খারাজ (কর) আদায় করার জন্য এদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। অপর বর্ণনা রয়েছে, জিযিয়া আদায় করার জন্য এদেরকে আটক করা হয়েছে। হিশাম (রা) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসূলুল্লাহ (স) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যারা পৃথিবীতে মানবকে শাস্তি দেয়, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন। এরপর হিশাম (রা) সেখানকার শাসক (ওমায়ের ইবনে মায়াদের) কাছে গিয়ে তাকে এ হাদীস শুনালেন। এতে শাসক তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার হুকুম দিলেন। অবশেষ তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল। (মুসলিম)


১৬০৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (স) মুখে উল্কি আঁকা একটি গাধা দেখলেন। তিনি এ কাজটাকে অপছন্দ করলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি মুখ হতে যে অংশ সার্বাধিক দূরে সেই অংশে দাগ দেব। মহানবীর (স) নির্দেশে গাধাটির পাছায় দাগ লাগানো হলো। কোন পশুর পশ্চাদদেশে দাগ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম। (মুসলিম)


১৬০৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণিত। নবী (স) -এর সামনে দিয়ে একটা গাধা যাচ্ছিল। গাধাটির মুখে দাগানোর চিহ্ন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এটাকে দাগ দিয়েছে তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ।
ইমাম মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার অপর বর্ণনায় রয়েছে রাসূলুল্লাহ (স) কোন জীবজন্তুর মুখে হানতে এবং দাগ দিতে নিষেধ করেছেন।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?