লাইলাতুল কাদ্‌রে কেয়াম করার গুরুত্ব ও সর্বাধিক আশাপ্রদ রাতের বর্ণনা

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“নিঃসন্দেহে আমি কুরআন নাযিল করেছি কদরের রাতে; আর মহিমাম্বিত রজনী সম্বন্ধে তুমি কি জান? মহিমাম্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। ঐ রাত্রিতে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সেই রা্ত্রি ঊষার অভ্যুদয় পর্যন্ত।” (সূরা কাদ্‌র)

তিনি আরো বলেছেনঃ

“অবশ্যই আমি কুরআন নাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে; আমি তো সর্তককারী।” (সূরা দুখানঃ ৩)

 

১১৯০. হযরত আবু হুরাইরা (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসেও সাওয়াব হাসিলের আশায় কাদরের রাতে কিয়াম করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৯১. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সা)-এর সাহাবীগণের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে রমযানের শেষ (দশকের) সাত রাতে স্বপ্নের মাধ্যমে শবে-কাদর দেখানো হয়। ফলে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ তোমাদের স্বপ্নের শেষ দশকের সাত রাতের ব্যাপারে ঐকমত্য সাধিত হয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি শবে-কাদর খুঁজতে চায় তার এই শেষ (দশকের) সাত রাতের মধ্যে খোঁজা উচিত। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৯২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) রমযানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেনঃ রমযানের শেষ দশকে শবে-কাদরের তালাশ কর। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৯৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে-কাদরের তালাশ কর। (বুখারী)


১১৯৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রমযানের শেষ দশক দিন শুরু হলে রাসূলুল্লাহ (সা) সারারাত জাগ্রত থাকতেন, নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন এবং (আল্লাহর ইবাদাতে) খুব বেশি সাধনা ও পরিশ্রম করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৯৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) রমযানে (আল্লাহর ইবাদাতের ক্ষেত্রে) এমন প্রচেষ্টা ও সাধনা করতেন যা অন্য কোন মাসে করতেন না। আর তার শেষ দশকে দিনে এমন চেষ্টা ও সাধনা করতেন যা অন্য কোন সময় করতেন না। (মুসলিম)


১১৯৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যদি জানতে পারি, কোন্ রাতটি কাদরের রাত, তবে আমি তাতে কি বলবো? তিনি বললেনঃ তুমি বলবে “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন আফওয়া ফা’ফু আননী” -হে আল্লাহ! আপনি অবশ্যই ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিযী)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?