রাসূলুলস্নাহ (স) -এর আহলে বাইত তথা পরিবারবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শ করা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের মর্যাদার সুরক্ষা
মহান আল্লাহ বলেনঃ

‘আল্লাহ এটাই চান যে, তিনি তোমাদের নবীর পরিবারের সদস্যদের থেকে অপরিচ্ছন্নতা দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে পুরোপুরি পবিত্র করে দেবেন।’ (সূরা আল আহযাবঃ ৩৩)

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনাবলীর প্রতি সম্মান দেখাবে; কারণ এটা অন্তরের তাকওয়ার ব্যাপার।’ (সূরা আল-হজ্জঃ ৩২)

 

৩৪৭. হযরত ইয়াযীদ ইবনে হাইয়ান বর্ণনা করেন, (একদা) আমি, হুসাইন ইবনে সাবরা এবং আমর ইবনুল মুসলিম (রা) যায়েদ ইবনে আকরাম (রা)-এর কাছে গেলাম। আমরা তাঁর কাছে বসলে হুসাইন তাকে বললেনঃ হে যায়েদ! আপনি অফুরন্ত কল্যানের অধিকারী হয়েছেন। আপনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, তাঁর হাদীস শুনেছেন, যুদ্ধে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন এবং তাঁর পিছনে নামায পড়েছেন। হে যায়েদ! আপনি অফুরন্ত কল্যাণের অধিকারী হয়েছেন। হে যায়েদ! আপনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যা শুনেছেন, তা আমাদেরকে বলুন। তিনি বললেনঃ হে ভাতিজা! আল্লাহর কসম! আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আমার যুগ বাসী হয়ে গেছে। সর্বোপরি, আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু মুখস্ত করেছিলাম তার কিছু কিছু ভুলে গেছি। সুতরাং আমি তোমাদের যা বলবো তা মেনে নেবে। আর যা বলবো না, তার জন্য আমায় কষ্ট দেবে না। এরপর তিনি বললেনঃ একদিন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘খুমা’ নামক একটি কূপের কাছে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে বক্তৃতা করতে শুরু করলেন। জায়গাটি মক্কা ও মদীনার মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রথমে তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতিবাদ করলেন, লোকদেরকে উপদেশ দিলেন ও শান্তি ও শাস্তির কথা স্মরণ করে দিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ হে জনগন! সাবধান হয়ে যাও। হয়তো শীগগীরই আমার প্রভুর দূত এসে যাবে এবং আমাকে আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, যার মধ্যে রয়েছে পথনির্দেশনা (হেদায়েত) এবং আলোক রশ্মি। তোমরা আল্লাহর কিতাবকে ধারণ দৃঢ়ভাবে করো এবং তাকে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখো।’

হযরত যায়েদ বলেনঃ ‘রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আল্লাহর কিতাবের প্রতি অনুপ্রাণিত করলেন এবং তদানুসারে কাজ করার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারবর্গের ব্যাপারে আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। (অর্থ্যাৎ তোমরা তাদেরকে ভুলে যাবে না)।’ হুসাইন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে যায়েদ! তার আহলে বাইত কারা? তাঁর স্ত্রীরা কি তাঁর আহলি বাইতের শামিল নন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাঁর স্ত্রীরাও আহলি বাইতের শামিল। আর ব্যাপকভাবে বলতে গেলে, তাঁর ইন্তেকালের পর যাদের প্রতি সাদকা খাওয়া নিষিদ্ধ (হারাম) করা হয়েছে, তারাও তাঁর পরিবারবর্গের শামিল। হুসাইন জিজ্ঞেস করলেন, তারা কে কে? যায়েদ বললেন, তাঁরা হলেনঃ আলী (রা), আকীল (রা), জাফর (রা) ও আব্বাস (রা)-এর বংশধরগণ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ এদের সবার প্রতি কি সাদকা নিষিদ্ধ ছিল? তিনি (যায়েদ ) বললেনঃ ‘হ্যাঁ’। (মুসলিম)

অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ সাবধান! আমি তোমাদের মাঝে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রেখে যাচ্ছি। তার একটি হলো আল্লাহর কিতাব, (এটা হলো আল্লাহর রশি- অর্থ্যাৎ আল্লাহর সাথে বান্দার যোগসূত্র।) যে ব্যক্তি তার অনুসরণ করবে, সে হেদায়েতের নির্ভুল ও সঠিক পথেই থাকবে। আর যে ব্যক্তি একে ছেড়ে দেবে, সে গোমরাহ বা ভ্রষ্টাচারী হয়ে যাবে।


৩৪৮. হযরত ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করে, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) মওকুফরূপে বর্ণনা করেনঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করো। (বুখারী)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?