রাত জেগে ইবাদাতে লিপ্ত থাকার ফযীলত

মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন,

“আর রাতের একটি অংশে তাহাজ্জুদের নামায আদায় কর। তা তোমার জন্য হবে অতিরিক্ত বস্তু। আশা করা যায়, তোমার প্রভু তোমাকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থান) স্থান দিবেন
(সূরা বনী ইস্রাঈলঃ ৭৯)

মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন,

তাদের পিঠ বিছানা হতে পৃথক হয়ে থাকে।”
(সূরা আস্-সাজ্দাঃ ১৬)

তিনি আরো ইরশাদ করেছেন,

“তারা রাতে খুব কমই শয়ন করে।
(সূরা যারিয়াতঃ ১৭)

 

১১৬১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (স) রাতভর নামাযে এতো দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পবিত্র কুরআনে পাঠ করতেন যার ফলে তাঁর মুবারক পা দু’টো ফেটে গিয়েছিল। আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কেন এত কষ্ট করেন? আপনার তো আগেপ পরের সব ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। উত্তরে তিনি বললেন, (তুমি কি বল) তবে আমি আল্লাহ্র কৃতজ্ঞ বান্দা হবে না। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৬২. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (স) তাঁর ও ফাতের নিকটে রাতে আসেন এবং বলেন, তোমরা কি নামায (অর্থাৎ তাহাজ্জুদ) পড় না? (বুখারী ও মুসলিম)


১১৬৩. হযরত সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা (আবদুল্লাহ্) হতে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (স) বলেন, আবদুল্লাহ্ বড় ভালো হতো যদি রাতে নামায আদায় করত। সালেম (র) বলেন, এরপর হতে আবুদল্লাহ্ (রা)রাতে সামান্যক্ষণ ব্যতীত আর শয়ন করতেন না। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৬৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, হে আবদুল্লাহ! অমুকের মতো হয়ো না। কিছু দিন সে তাহাজ্জুদ আদায় করত এরপর তাহাজ্জুদ আদায় ছেড়ে দিয়েছে।
(বুখারী ও মুসলিম)


১১৬৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (স)-এর সামনে এমন এক ব্যক্তির প্রসঙ্গে পেশ করা কলো যে এক রাতে প্রভাত পর্যন্ত নিদ্রা গিয়েছিল। তিনি বলেন, সে এমন এক ব্যক্তি যার দুই কানে অথবা বলেছিলেন এক কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে।  (বুখারী ও মুসলিম)


১১৬৬. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি নিদ্রা গেলে শয়তান তার ঘাড়ের পেছন দিকে তিনটি গিরা লাগায়। প্রত্যেক গিরায় সে এ (মন্ত্র) পড়ে ফুঁক দেয়, রাত অনেক দীর্ঘ কাজেই নিদ্রা যাও। যদি (ঘটনাক্রমে) তার চোখ খুলে যায় এবং সে কিছু আল্লাহ্র যিকির করে তবে একটি গিরা খুলে যায়। আর যদি সে অযু করে নেয় তবে আর একটি গিরা খুলে যায়। এরপর যদি নামায আদায় করে নেয় তবে তৃতীয় গিরাটিও খুলে যায় এবং সকালে সে হাসি খুশি ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অন্যথায় তার প্রভাতে শুরু হয় মানসিক ক্লেদ ও আলস্যের মধ্য দিয়ে। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৬৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সা) ইরশাদ করেছেন, হে মানবগণ! সালামের ব্যাপক প্রচলন কর, (অভাবীদের) আহার করাও এবং রাতে মানবরা যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন তাহাজ্জুদের নামায আদায় কর। তবে নিশ্চিন্তে বেহেশতে যাবে। (তিরমিযী)


১১৬৮. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, রমযানের পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে মুহাররাম মাসের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম হচ্ছে রাতের অর্থাৎ (তাহাজ্জুদের) নামায। (মুসলিম)


১১৬৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেন, রাতের নামায হচ্ছে দুই দুই রাকাত। এরপর যখন সকাল হবার আশঙ্কা কর তখন এক রাকাতের মাধ্যমে তাকে বিত্রে পরিণত কর। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৭০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (স) রাতে নামায দু’রাকাত দু’রাকাত করে আদায় করতেন। আর এক রাকাতের মাধ্যমে তাকে বিত্রে পরিণত করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৭১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন রোযা পালন করতেন না, তখন আমাদের মনে হতো তিনি বুঝি এ মাসে কোন রোযাই রাখবেন না। আবার যখন তিনি রোযা পালন করা শুরু করতেন তখন মনে হতো এ মাসে বুঝি তিনি ইফ্তারই করবেন না। আর যদি আপনি তাঁকে রাতে নামাযরত অবস্থায় দেখতে না চান তাহলে তা দেখতে না চান তাহলে তা দেখতে পাবেন। আর নিদ্রারত অবস্থায় দেখতে না চান তবে তাও দেখতে পাবেন অর্থাৎ তিনি রোযাও পালন করতেন এবং ইফতারও করতেন, রাতে ঘুমাতেন এবং নামাযও আদায় করতেন। এক কথায় তিনি ইবাদতে ভারসাম্য রক্ষা করতেন। (বুখারী)


১১৭২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) এগারো রাকাত নামায আদায় করতেন। (রাতের তাহাজ্জুদ নামাযে)। আর এই নামাযে এত দীর্ঘ সেজ্দা করতেন যত সময়ে তার মাথা তোলার পূর্বে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করতে পারে। আর ফজরের নামাযের পূর্বে দু’রাকাত আদায় করতেন। এরপর নিজের ডান কাতে শুয়ে পড়তেন। এমনকি মুয়ায্যিন তাঁকে নামাযের জন্য ডাকাতে আসত।  (বুখারী)


১১৭৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) রমযান ব্যতীত আর কোন মাসে নয়, ১১রাকাতের অধিক পড়তেন না (রাতে তাহাজ্জুদের নামায) প্রথমে তিনি পড়তেন ৪রাকাত । এই ৪ রাকাত নামায যে কী সুন্দর আর কত দীর্ঘ হতো তার আর প্রশ্ন করো না। এরপর ৪ রাকাত আদায় করতেন। এ ৪ রাকাত যে কী সুন্দর ও কত দীর্ঘ হতো তা আর প্রশ্ন করো না। এরপর পড়তেন তিন রাকাত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বিত্র আদায় করার পূর্বে কি আপনি নিদ্রা যান? তিনি বললেন, হে আয়েশা! আমার দু’চোখে নিদ্রা, কিন্তু আমার মন নিদ্রা যায় না।
(বুখারী ও মুসলিম)


১১৭৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত। নবী করীম (স) প্রথম নিদ্রা যেতেন এবং শেষ রাতে জেগে নামায আদায় করতেন।
(বুখারী ও মুসলিম)


১১৭৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গত রাতে আমি নবী করীম (স) এর সাথে নামায আদায় করছিলাম। তিনি এত দীর্ঘ কেয়াম করলেন যে, আমি খারাপ সংকল্প করলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি সংকল্প করেছিলেন? তিনি বললেন, আমি সংকল্পকরেছিলাম আমি তাঁর নামায ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ব। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৭৬. হযরত হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে নবী করীম (স)-এর সাথে নামায পড়ছিলাম। তিনি সূরা বাকারা পাঠ করতে আরম্ভ করলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, (হয়তো) তিনি একশ’ আয়াতে রুকু করবেন। এরপর তিনি এগিয়ে চললেন। (আতি(মনে মনে) বললাম, (হয়তো) তিনি এক রাকাতে তা পাঠ করবেন। তিনি পড়তে থাকলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, (হয়তো) এক রাকাতে তা পাঠ করবেন। তিনি পড়তে থাকলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, (হয়তো)তিনি এ সূরাটি শেষ করে রুকু করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তা পাঠ করলেন। এরপর আলে-ইমরান আরম্ভ করলেন এবং তাও শেষ করে ফেললেন। তিনি তারতীল সহকারে (ধীরে সুস্থে থেমে থেমে) কেরাত পরছিলেন। যখন তিনি কোন তাসবীহের আয়তে পৌঁছেতেন তখন তাসবীহ্ পাঠ করতেন, কোন প্রার্থনার স্থানে পৌঁছলে প্রার্থনা করতেন আর তায়াউযের (আশ্রয় প্রার্থনা) আয়াতে পেঁছৈলে আল্লাহ্র নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এরপর তিনি রুকু করলেন, তবে তিনি বলতে থাকলেন, ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম” (পবিত্রতা বর্ণনা করছি আমি আমার মহান রবের) তার রুকুও ছিল তাঁর কিয়ামের সমান। এরপর তিনি রুকু হতে মাথা উঠাতে উাতে বলেন, “সামি আল্লাহুলিমান হামিদাহ রাব্বানা লাকাল হাম্দ। এ সময় তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন, প্রায় যত সময় রুকু করেছিলেন তত সময় পর্যন্ত। এরপর তিনি সেজ্দা করলেন এবং এতে বলেন, “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা।” তাঁর সিজ্দাও ছিল প্রায় তাঁর কিয়ামের সমান। (মুসলিম)


১১৭৭. হযরত জাবের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন্ নামায উত্তম? তিনি বললেন, যে নামাযে কিয়াম দীর্ঘায়িত হয়। (মুসলিম)


১১৭৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ্র নিকটে (নফল নামাযের মধ্যে) প্রিয়তম নামায হচ্ছে হযরত দাউদ (আ)-এর মতো নামায আদায় করা। আর (নফল রোযার মধ্যে আল্লাহ্র নিকটে প্রিয়তম রোযা হচ্ছে হযরত দাউদ (আ)-এর মতো রোযা পালন করা। তিনি রাতের প্রথমার্ধে নিদ্রা যেতেন। রাতের তৃতীয় অংশে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। এরপর শেষের ষষ্ঠ অংশে শুয়ে পড়তেন। আর তিনি একদিন রোযা পালন করতেন এবং একদিন ইফ্তার করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)


১১৭৯. হযরত জাবের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি, রাতে এমন একটি দোয়া মঞ্জুরের সময় রয়েছে যখন মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহ্র নিকটে পৃথিবী ও পরকালের কল্যাণের কোন দোয়া করলে আল্লাহ্ অবশ্য তা কবুল করেন। আর এ সময়টি রয়েছে প্রত্যেক রাতে। (মুসলিম)


১১৮০. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যখন রাতে নামাযের জন্য ওঠে তখন যেন দুটি হালকা রাকাত (নামায) দিয়েই আরম্ভ করে। (মুসলিম)


১১৮১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন রাতে নামায আদায় করতে উঠতেন প্রথম দু’টি হাল্কা রাকাত দিয়ে আরম্ভ করতেন। (মুসলিম)


১১৮২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন কখনো রোগজনিত কষ্টের দরুন বা অপর কোন কারণে রাতে নামায আদায় করতে না, তখন তিনি দিনের বেলা ১২ রাকাত আদায় করে নিতেন। (মুসলিম)


১১৮৩. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নিজের নির্ধারিত অযীফা বা ঐ ধরনের কোন কিছু না পাঠ করে নিদ্রা যায়, এরপর তা পাঠ করে ফযর ও যোহরের নামাযের মধ্যখানে তার জন্য এমন পুণ্য লেখা হয়, যেন সে রাতেই তা পাঠ করেছে। (মুসলিম)


১১৮৪. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ্ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়াপরবশ হন যে রাতে নিদ্রা হতে জেগে উঠে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায় আর স্ত্রী যদি উঠতে অস্বীকার করে তবে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। মহান আল্লাহ্ সেই মহিলার প্রতি দয়াপরবশ হন যে রাতে ঘুম হতে উঠে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে এবং নিজের স্বামীকেও জাগায় আর স্বামী উঠতে অস্বীকার করলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।
(আবু দাউদ)


১১৮৫. হযরত আবু হোরায়রা ও আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, যখন কোন ব্যক্তি রাতে তার স্ত্রীকে জাগায় এবং তারা দু’জনে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে অথবা (তিনি বলেছেন) দু’রাকাত নামায আদায় করে, তাদের দু’জনের নাম যিকরকারী ও যিকরকারিণীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করে নেয়া হয়। (আবু দাউদ)


১১৮৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের কারোর মধ্যে ঝিমুনী আসে, সে নামায ছেড়ে দিয়ে যেন এতটা পরিমাণ নিদ্রা যায় যার ফলে তার নিদ্রা চলে যায়। কারণ যখন তোমাদের কেউ ঝিমাতে ঝিমাতে নামায আদায় করে তখন হয়েতো সে ইস্তিগফার করতে চায় কিন্তু তার মুখ দিয়ে বের হয়ে যায় মন্দ কথা যা তার নিজের বিপক্ষে হয়ে যায়।
(বুখারী ও মুসলিম)


১১৮৭. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাগ (স) ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের কেউ রাতে নিদ্রা হতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করতে থাকে এ অবস্থায় (ঘুমের প্রভাবের কারণে) তার মুখ দিয়ে কুরআন পড়া যদি কঠিন হয়ে পড়ে সে কি বলছে তার কোন খবরই না থাকে তবে সে যেন শুয়ে পড়ে। (মুসলিম)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?