যুলুম হারাম

১৪১. আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

“হে আমার বান্দাগণ! নিশ্চয় আমি আমার ওপর যুলুম হারাম করেছি, আমি তোমাদের মাঝেও তা হারাম করেছি অতএব তোমরা যুলুম কর না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই গোমরাহ তবে আমি যাকে হিদায়েত দেই, অতএব আমার কাছে হিদায়েত তলব কর আমি তোমাদেরকে হিদায়েত দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে ক্ষুধার্ত তবে আমি যাকে খাদ্য দেই, অতএব আমার নিকট খাদ্য তলব কর আমি তোমাদেরকে খাদ্য দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে বিবস্ত্র তবে আমি যাকে বস্ত্র দান করি, অতএব আমার নিকট বস্ত্র তালাশ কর আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাত ও দিনে ভুল কর, আমি তোমাদের সকল পাপ মোচন করি, অতএব আমার নিকট ক্ষমা চাও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমার ক্ষতি পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না যে আমার ক্ষতি করবে। আর না তোমরা আমার উপকার পর্যন্ত  পৌঁছতে পারবে যে আমার উপকার করবে। যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে নেককার ব্যক্তির মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য বৃদ্ধি করবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোকের মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য হ্রাস করবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার নিকট প্রার্থনা করে, অতঃপর আমি প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বস্তু প্রদান করি, তাও আমার নিকট যা রয়েছে তা হ্রাস করতে পারবে না, তবে সুই যে পরিমাণ পানি হ্রাস করে যখন তা সমুদ্রে প্রবেশ করানো হয়। হে আমার বান্দাগণ! এ তো তোমাদের আমল যা আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করি, অতঃপর তোমাদের তা পূর্ণ করে দেব। অতএব যে ভালো কিছু পেল সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, যে অন্য কিছু পেল সে যেন নিজেকে ভিন্ন কাউকে দোষারোপ না করে”। (সহীহ মুসলিম, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ) হাদীসটি সহীহ।

আবু সাঈদ বলেন: আবু ইদরিস খাউলানি যখন এ হাদীস বলতেন: হাঁটু গেড়ে বসতেন।


১৪২. জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

“আমার নিকট একটি হাদীসের সংবাদ পৌঁছেছে, যা কোনো এক ব্যক্তির নিকট রয়েছে যে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছে। অতঃপর আমি একটি উট খরিদ করি ও তাতে সফর করি, অতঃপর একমাস সফর করে শামে গিয়ে তার সাক্ষাত লাভ করি, দেখলাম তিনি আব্দুল্লাহ ইবন উনাইস।

আমি দারোয়ানকে বললাম: তাকে বল: জাবের দরজায় অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন: (জাবের) ইবন আব্দুল্লাহ? আমি বললাম: হ্যাঁ, তিনি নিজ কাপড় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হলেন, অতঃপর আমার সাথে আলিঙ্গন করলেন, আমিও তার সাথে আলিঙ্গন করলাম। আমি বললাম: আপনার কাছ থেকে আমার নিকট কিসাস সম্পর্কে একটি হাদীস পৌঁছেছে যে, আপনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শ্রবণ করেছেন, আমি আশঙ্কা করছিলাম, হয় আপনি মারা যাবেন, অথবা আমিই মারা যাব তা শ্রবণ করার আগে। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “কিয়ামতের দিন মানুষদের অথবা বলেছেন: বান্দাদের, হাজির করা হবে, (উরাত) উলঙ্গ, (গুরলান) খৎনা বিহীন, (বুহমান) খালি হাত অবস্থায়”। তিনি বলেন: আমরা বললাম: বুহমান কি? তিনি বললেন: “তাদের সাথে কিছু থাকবে না। অতঃপর তিনি তাদেরকে নির্দিষ্ট আওয়াজ দ্বারা ডাক দিবেন যা নিকট থেকে শুনা যাবে: আমিই বাদশাহ, আমি প্রতিদান দানকারী, কোনো জাহান্নামী যার কোনো জান্নাতীর নিকট হক রয়েছে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস পাইয়ে দিব। কোনো জান্নাতী যার নিকট কোনো জাহান্নামীর হক রয়েছে জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস পাইয়ে দিব, এমনকি চড় পর্যন্ত”। তিনি বলেন: আমরা বললাম: কীভাবে তা সম্ভব হবে, আমরা তো তখন আল্লাহর নিকট উলঙ্গ, গুরলান বুহমান হাজির হব?[1] তিনি বললেন: নেকি ও পাপের মাধ্যমে”। (আহমদ, বুখারী ফিল আদাবুল মুফরাদ, আবু আসেম, হাকেম) হাদীসটি হাসান লি গায়রিহী।


[1] অর্থাৎ কীভাবে পরস্পরের হক আদান-প্রদান করব, আমাদের সাথে তো কিছুই থাকবে না? তার জবাবে বলা হয়েছে যে এ আদান-প্রদান ও কিসাস হবে সৎ কাজ ও অসৎ কাজের মাধ্যমে। সুতরাং কারও ভালো কাজ থাকলে, দুনিয়াতে কারও উপর যুলুম করে থাকলে সে ভালো কাজ তাকে দিয়ে দেওয়া হবে, আর না থাকলে তার ওপর অপরের গোনাহ চাপিয়ে দেওয়া হবে। [সম্পাদক]

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?