মসজিদে গমনের গুরুত্ব

মসজিদে যাওযার ফযীলত

১০৫৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে যায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন, যতবারই সে সকালে বা সন্ধ্যায় যায় ততবারই।    (বুখারী ও মুসলিম)


১০৫৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে পবিত্রতা অর্জন করে (ওযু ও প্রয়োজনে গোসল করে) আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য থেকে কোন একটি ঘরের দিকে যায়, আল্লাহর ফরয নামাযসমূহের মধ্য থেকে কোন একটি ফরয আদায় করার উদ্দেশ্যে, তার একটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় পদক্ষেপের তার একটি মর্যাদা উন্নীত হয়। (মুসলিম)


১০৫৬. হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনসারদের মধ্যে একজন লোক ছিলেন। মসজিদ থেকে তাঁর অপেক্ষা বেশি দূরে অবস্থানকারী কোন লোকের কথা আমি জানি না। তাঁকে বলা হলঃ আপনি যদি একটি গাধা কিনে নিতেন, তাহলে আঁধার রাতে ও প্রখর রোদে তার পিঠে চড়ে মসজিদে আসতেন। তিনি বললেনঃ আমার ঘর যদি মসজিদের পাশে হয় তাহলে তাতে আমি মোটেই খুশি হব না। আমি চাই, আমার ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে আসা ও আবার মসজিদ থেকে পরিবার-পরিজনের উদ্দেশ্যে ঘরের দিকে যাওয়া সবটুকু আল্লাহর পথে লেখা হোক। এতে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ “আল্লাহ তোমার জন্য এ সবগুলো একত্রিত করে দিয়েছেন।”   (মুসলিম)


১০৫৭. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মসজিদের পাশে কিছু জায়গা খালি হল। বনু সালামা গোত্র (সেই জমি কিনে) মসজিদের নিকট স্থানান্তরিত হতে মনস্থ করল। এ খবর নবী করীম (সা) এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদের বললেনঃ আমি জানতে পারলাম, তোমরা মসজিদের সন্নিকটে স্থানান্তরিত হতে চাও। তারা বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা)! আমরা এ রকম ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেনঃ হে বনী সালামা! তোমরা নিজেদের বর্তমান বাসস্থানেই অবস্থান কর, তোমাদের পদক্ষেপগুলো। (সওয়াব হিসেবে আল্লাহর সমীপে) লিখিত হচ্ছে, তোমরা নিজেদের বর্তমান স্থানেই অবস্থান কর। তোমাদের পদক্ষেপগুলো লিখিত হচ্ছে, একথা শুনে তারা বললোঃ তাহলে আর মসজিদের পাশে আসা আমাদের কি-ই বা আনন্দিত করতে পারে।    (মুসলিম)

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। আর ইমাম বুখারী, আনাস (রা) থেকে একই অর্থবোধক একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।


১০৫৮. হযরত আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে নামাযের জন্য সর্বাপেক্ষা বেশি প্রতিদান পাবে সে ব্যক্তি যে সর্বাপেক্ষা বেশি দূর হেঁটে নামাযে আসে। তারপর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামায পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে সে তার অপেক্ষা বেশি প্রতিদান পাবে, যে একাকী নামায পড়ে, তারপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।  (বুখারী ও মুসলিম)


১০৫৯. আবু বুরাইদা (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেনঃ তিনি বলেছেনঃ অন্ধকারে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে আগমনকারীদের কিয়ামতের দিনের পরিপুর্ণ আলোর সুখবর দাও। (আবু দাঊদ ও তিরমিযী)


১০৬০. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ে জানাব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা গুনাহসমূহ মুছে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? সাহাবা কিরাম (রা) বললেনঃ নিশ্চয়ই, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে, কষ্ট পুরোপুরি ওযূ করা, মসজিদের দিকে বেশি পদক্ষেপ। (বেশি দূর থেকে মসজিদে আসা) এবং নামাযের পর আরেক নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরা। এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরা। (মুসলিম)


১০৬১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন লোককে বারবার মসজিদসমূহে আসতে দেখ তখন তার ঈমানের সাক্ষ্য দাও। কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করে তারা যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং শেষ দিনের (কিয়ামতের দিন) ওপর ঈমান এনেছে। (তিরমিযী)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?