বিভিন্ন কাজকর্ম ও স্বপ্ন সংক্রান্ত শিষ্টাচারের বর্ণনা

নিদ্রা, শোয়া, বসা, মজলিস, মজলিসের সাথী
এবং স্বপ্নের আদব ও শিষ্টাচারসমূহের বর্ণনা

ঘুমানোর সময় কোন দুয়া পড়বে

৮১৪. বারা’আ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বিছানায় শয়ন করতে গিয়ে ডান কাতে শুয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আমার নফসকে তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার সত্তাকে তোমার দিকে ফেরালাম। আমার কাজ তোমার উপর সোপর্দ করলাম, আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে ঠেকালাম তোমার কাছে আশা ও আশংকা সহকারে। তুমি ছাড়া কোথাও (তোমার আযাব ও শাস্তি থেকে) আশ্রয় ও মুক্তি নেই। আমি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর ঈমান আনলাম আর আপনার প্রেরীত নবীর উপরও।” (বুখারীঃ কিতাবুদ্‌ দাওয়াত)


৮১৫. বারা’আ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে বললেনঃ তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবার ইচ্ছা করবে, তখন নামাযের ওযুর ন্যায় ওযু করো, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়ো, এরপর বলবেঃ- আল্লাহুম্মা … পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তাতে এও রয়েছে যে, এ দু’আকেই তোমার শেষ কথা হিসেবে উচ্চারণ করবে।   (বুখারী, মুসলিম)


৮১৬. আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা) রাতে এগার রাকাআত নামায পড়তেন। যখন সুবহে সাদিক হয়ে যেত তখন তিনি হালকাভাবে দুই রাকাআত নামায পড়তেন, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন। তারপর মুয়াযযিন এসে তাঁকে (জামায়াত প্রস্তুত আছে বলে) অবহিত করত। (বুখারী, মুসলিম)


৮১৭. হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা) রাতে যখন শয্যা গ্রহণ করতেন, তখন গালের নিচে হাত রাখতেন, তারপর বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি মরছি ও জিন্দা হচ্ছি।” তিনি ঘুম থেকে যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ “আল্‌হামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর”- সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যু দান করার পর পুনরায় জীবন দান করেছেন। তাঁরই নিকট ফিরে যেতে হবে।    (বুখারী)


৮১৮. ইয়াঈশ ইবনে তিখফা আল-গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমি একদা মসজিদে উপুর হয়ে শোয়া ছিলাম। হঠাৎ কে একজন তাঁর পা দিয়ে আমাকে নাড়া দিলেন, তারপর বলেনঃ এ ধরনের শোয়াকে আল্লাহ অপছন্দ (ও ঘৃণা) করেন। আমার পিতা বলেন, আমি চেয়ে দেখি, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)।

ইমাম আবু দাঊদ সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।


৮১৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বৈঠকে বা মজলিসে বসলো এবং সেখানে মহান আল্লাহর স্মরণ করলো না, এটা তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষতি ও ভর্ৎসনার কারণ হবে। আর যে ব্যক্তি কোন বিছানায় শুইলো এবং মহান আল্লাহর স্মরণ করলো না, এটাও তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষতি ও ভর্ৎসনার কারণ হবে।

ইমাম আবু দাঊদ উত্তম সনদে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “তিরাতুন” শব্দের অর্থ ক্ষতি, মন্দ পরিনতি।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?