বিছানা-পত্র, কাপড়-চোপড়, বালিশ, পাথর, ধাতু, মুদ্রা, কাগজী নোট ইত্যাদির উপর জীব-জন্তুর ছবি অংকন করা হারাম বা অনুরূপভাবে দেয়াল, ছাদ, পর্দার বস্ত্র, পাগড়ি, কাপড় ইত্যাদির উপর চিত্রাংকন করা নিষেধ এবং এসব হতে ছবি তুলে ফেলা বা মুছে ফেলার নির্দেশ

১৬৭৮ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ (স) বলেন, যেসব লোক ছবি তৈরি করে তাদের কেয়মতের দিন আযাব দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে , যা তোমার এঁকেছো তাতে জীবন দান কর। ( বুখারী ও মুসলিম)


১৬৭৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কোন এক ভ্রমন হতে ফিরে আসলেন। আমি চত্বরে একটি পরদা ঝুলিয়ে রেখেছিলাম তাতে চিত্রাংকন করা ছিল। তা দেখে রাসূলুল্লাহ (স) -এর চেহারা মোবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, হে আয়েশা! কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে ঐ সব ব্যক্তিই কঠিন সাজাপ্রাপ্ত হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে নকল করে ( চিত্রাংকের নির্মান করে)। আয়েশা (রা) বললেন, এরপর আমি তা ছিঁড়ে ফেললাম এবং তা দ্বারা একটি অথবা দু’টি বালিশ তৈরি করলাম। ( বুখারী ও মুসলিম )


১৬৮০. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক চিত্রকরের প্রতিটি ছবির বদলে একজন করে ব্যক্তি নিযুক্ত করা হবে। এরা দোযখের মধ্যে তাদেরকে শাস্তি দেবেন। ইবনে আব্বাস বলেন, যদি তোমাকে ছবি অংকন করতে হয়, তবে বৃক্ষ বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি অংকন কর। ( বুখারী ও মুসলিম)


১৬৮১ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলূল্লাহ (স) কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি পৃথিবীতে কোন কিছুর চিত্রাংকর করবে। কেয়ামতের দিন তাকে ওই চিত্রের মধ্যে জীবন দিতে বলা হবে। অথচ সে তা করতে পারবে না । ( বুখারী ও মুসলিম)


১৬৮২ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলূলস্নাহ (স) কে বলতে শুনেছি কোয়ামতের দিন ছবি নির্মাতাগণই সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। ( বুখারী ও মুসলিম)


১৬৮৩ হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলূলস্নাহ (স) কে বলতে শুনেছি আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি আমার সৃষ্টির মত কোন কিছু সৃষ্টি চায় মতো বড় অত্যাচারি আর কে রয়েছে? যদি সে পারে তাহলে একটি ধুলির কণা অথবা একটি শস্য দানা কিংবা একটি যবের দানা সৃষ্টি করুক। ( বুখারী ও মুসলিম)


১৬৮৪. আবু তালহা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ(সা) বলেছেনঃ “যে ঘরে কুকুর অথবা ছবি আছে, সে ঘরে ফেরেশতা যাতায়াত রে না। (বুখারী, মুসলিম)


১৬৮৫ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত জিবরাঈল (আ) একদা রাসূলুল্লাহ (সা) –এর সাথে সাক্ষাৎ করার অঙ্গীকার করলেন। কিন্তু তিনি আসতে বিলম্ব করলেন, এ বিলম্বটা রাসূলুল্লাহ (সা) –এর নিকট অত্যন্ত কষ্টকর মনে হল। পড়ে তিনি বাড়ি হতে বের হলে জিবরাঈলের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি অভিযোগ করলেন। উত্তরে জিবরাঈল (আ) বললেন, যে গৃহে কুকুর অথবা কোন জীব-জন্তুর ছবি থাকে আমরা সে গৃহে কখনো গমন করি না। (বুখারী)


১৬৮৬ হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, জিবরাঈল (আ) একটি সুনির্ধারিত সমেয় রাসূলূল্লাহ (স) এর সাথে দেখা করার অঙ্গীকার করলেন। সুনিদির্ষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি আসলেন না। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলূলস্নাহ (স) এর হাতে একটি লাঠি ছিল। তনি তা ছুড়েঁ ফেলে দিয়ে বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলগণ কখনো ওয়াদা খেলাপ করেন না। এর পর তিনি এদিকে সেদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার খাটিয়ার নিচে একটি কুকুর দেখতে পেলেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন আমি বললাম , আল্লাহর শপথ! আমি জানি না এটি কখন ঢুকেছে। তিনি তাড়িয়ে দেয়ার আদেশ দিলে কুকুরটিকে বের করে দেয়া হল। এরপর জিব্রাঈল (আ) তাঁর কাছে আগমণ করলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বললেন, আপনি আসার অঙ্গীকার করেছেন। আমি আপনার জন্য বসে ছিলাম; কিন্তু আপনি আসেননি। তিনি বললেন, আপনার ঘরের মধ্যে যে কুকুরটি ছিল, তার কারণে আমি আসতে পারি নি। যে গৃহে কুকুর অথবা জীবের প্রতিকৃতি থাকে আমরা সে ঘরে কখনও প্রবেশ করি না। ( মুসলিম )


১৬৮৭ হযরত আবু তাইয়াহ হাইয়ান ইবনে হোসাইন (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আলী ইবনে আবু তালিব (রা) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই কাজে পাঠাব যে কাজ করতে রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হল, কোন ছবি চুরমার না করে ছাড়বে না এবং কোন উঁচু কবর মাটির সমান না করে ছাড়বে না। ( মুসলিম)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?