পুণ্যশীল ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ, তাদের সংশ্রব, তাদের ভালোবাসা, তাদের সাথে সাক্ষাতের সংকল্প করা, তাদের থেকে দোয়া নেয়া এবং মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূহ দর্শন করার বিবরণ

মহান আল্লাহ বলেনঃ

(তখনকার কথা স্মরণ করো) যখন মূসা তাঁর সফর সঙ্গীকে বলল, আমি আমার সফরের ইতি টানবো না যতক্ষণ না দুই নদী মিলনস্থলে পৌঁছবো। নচেৎ, এক সুদীর্ঘকাল ধরে আমি শুধু চলতেই থাকবো। এরপর যখন তারা দুই নদীর মিলনস্থলে পৌঁছলো, তখন তারা নিজেরা তাদের মাছের কথা বেমালুম ভুলে গেল। ফলে মাছটি ছুটে গিয়ে এমনভাবে নদীর পথ ধরলো, যেন তারা সুড়ঙ্গে ঢুকে গেছে। আরো সামনে এগিয়ে মূসা তাঁর সঙ্গীকে বললো, আমাদের নাশতা (খাবার) নিয়ে আস। এই সফরে আমরা অত্যন্ত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি। সঙ্গী বললোঃ আমরা যখন সেই প্রস্তুরভূমিতে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন কি ঘটেছিল, তা কি আপনি লক্ষ্য করেছেন? তখন আমি মাছের কথা একদম ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমায় এ কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটা বিস্ময়করভাবে বের হয়ে নদীতে পালিয়ে গেল। মূসা বললো, আমরা তো এটাই চাইছিলাম। এরপর তারা উভয়েই নিজেদের পদচিহ্ন ধরে পুনরায় ফিরে এল। সেখানে তারা আমার একজন বান্দাকে খুঁজে পেল। তাকে পূর্বেই আমরা স্বীয় অনুগ্রহ দিয়ে ধন্য করেছিলাম। এমনকি, নিজের পক্ষ থেকে তাকে এক বিশেষ ধরনের জ্ঞানও দিয়েছিলাম। মূসা তাকে বললঃ আমি কি এ শর্তে আপনার সঙ্গে থাকতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকেও কিছু শিক্ষা দেবেন? (সূরা আল কাহাফঃ ৬০-৬৬)

আল্লাহ আরো বলেনঃ

‘আর তোমার হৃদয়কে সেইসব লোকের সাহচর্যে স্থিতিশীল রাখো, যারা নিজেদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের সন্ধানে সকাল-সন্ধ্যা তাঁকে ডাকে এবং তাদের থেকে কক্ষনো অন্যদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে না।’ (সূরা আল কাহাফঃ ২৮)

 

৩৬০. হযরত আনাস (রা) বর্ণনা করেনঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা) উমর (রা) কে বলেনঃ আমাদের সঙ্গে (শৈশবে রাসূলের অন্যতম লালনকারী) উম্মে আইমানের কাছে চলুন। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে তার সাথে সাক্ষাত করতেন, আমরাও সেভাবে তার সাথে সাক্ষাত করবো। তারা উভয়ে যখন তার কাছে পৌঁছলেন, তিনি (উম্মে আইমন) কাঁদতে লাগলেন। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি জানেন না রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আল্লাহর কাছে অশেষ কল্যাণ মজুদ রয়েছে?’ তিনি জবাবে বললেনঃ আল্লাহর কাছে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যে কল্যাণ মজুদ রয়েছে, তাতো আমার জানাই আছে। আমি সেজন্য কাঁদছিনা; বরং আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান থেকে আর কখনো ওহী নাযিল হবে না। তার কথায় তারা উভয়ে আবেগ-তাড়িত হয়ে পড়লেন এবং তাঁর সঙ্গে তারাও কাঁদতে লাগলেন। (মুসলিম)


৩৬১. হযরত আবু হুরাইরা (রা) রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি অন্য শহরে বসবাসকারী তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করতে গেল। আল্লাহ তায়ালা তার জন্য পথে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিলেন। যখন সে রাস্তায় নেমে এল, ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন? জবাবে লোকটি বললোঃ শহরে আমার ভাই থাকে; তার সাথে সাক্ষাতের জন্য এসেছি। ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করলঃ আপনি কি তার কাছ থেকে কোন আকর্ষণীয় জিনিস পাওয়ার চেষ্টা করছেন? লোকটি বললোঃ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই আমি তাকে ভালোবাসি; এর পিছনে অন্য কোন স্বার্থ নেই। ফেরেশতা তাকে বললোঃ আমি আল্লাহর দূত হয়ে আপনার কাছে এসেছি শুধু এ কথা জানার জন্য যে, আপনি যেভাবে ঐ লোকটিকে ভালোবাসেন আল্লাহ সেভাবেই আপনাকে ভালবাসেন। (মুসলিম)


৩৬২. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যায় কিংবা নিজের ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যায়, একজন ঘোষক তাকে ডেকে বলেঃ তুমি আনন্দিত হও, তোমার পথ চলা কল্যাণময় হোক এবং জান্নাতে তোমার মর্যাদা উন্নত হোক। (তিরমিযী)


৩৬৩. হযরত আবু মূসা আল আশ’আরী বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সৎ সহচর ও অসৎ সহযোগীর দৃষ্টান্ত হলোঃ একজন কস্তুরীর ব্যবসায়ী, অন্যজন হাপর চালানকারী (অর্থ্যাৎ কামার)।   কস্তুরীর ব্যবসায়ী হয় তোমাকে বিনামূল্যে কস্তুরী দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে তা কিনে নেবে। যদি এ দু’টির একটিও না হয়, তবে তুমি অন্তত তার কাছ থেকে এর সুঘ্রাণটা পাবে। আর হাপর চালানকারী হয় তোমার কাপড় পুড়ে ফেলবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে। (বুখারী ও মুসলিম)


৩৬৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চারটি বিষয় বিবেচনা করে কোন মেয়েকে বিবাহ করা যেতে পারে। (১) তার ধন-সম্পদ (২) তার বংশ মর্যাদা (৩) তার রূপ সৌন্দর্য ও (৪) তার ধর্ম পরায়ণতা। এর মধ্যে তুমি ধর্মপরায়ণতা স্ত্রী লাভে সফলকাম হও; তোমার হাত কল্যাণে ভরপুর হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদীসটির মর্মবাণী এই যে, পুরুষরা সাধারণত স্ত্রী নির্বাচনে উপরোক্ত চারটি বিষয়ে গুরুত্বদান করে। কিন্তু বিবেকবান লোকদের ধার্মিক স্ত্রী লাভই বেশি আগ্রহ থাকা উচিত। এর মধ্যেই তার কল্যাণ নিহিত।


৩৬৫. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, একদা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইল (আ) কে বললেনঃ আপনি যতবার আমাদের সাথে সাক্ষাত করছেন, তার চেয়ে অধিকবার সাক্ষাত করতে কোন্ জিনিস আপনাকে বাধা দান করে? তখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ ‘হে মুহাম্মদ! আমরা তোমার প্রভুর নির্দেশ ছাড়া অবতরণ করতে পারি না। যা কিছু আমাদের সামনে রয়েছে, যা কিছু পেছনে রয়েছে আর যা কিছু এর মাঝামাঝি রয়েছে, সবকিছুর অধিপতি তিনিই। তোমার প্রভু কখনো ভুলে যান না।’ (সূরা মরিয়মঃ ৬৪) (বুখারী)


৩৬৬. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমানদার ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গী হয়ো না এবং মুত্তাকী (পরহেজগার) ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ যেন তোমার খাবার না খায়। (আবু দাউদ ও তিরমিযী)


৩৬৭. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে কোন ব্যক্তি (সাধারণত) তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়ে থাকে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য রাখা উচিত সে কি ধরনের বন্ধু গ্রহণ করছে। (আবু দাউদ ও তিরমিযী)


৩৬৮. হযরত আবু মূসা আশ’আরী বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক বক্তি যাকে পছন্দ করে, সে তার সঙ্গী বলেই গণ্য হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

অপর এক বর্ণনায় আছেঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ এক ব্যক্তি কোন এক সম্প্রদায়কে ভালোবাসে। কিন্তু (তার পক্ষে) তাদের সঙ্গে মিলিত হওয়া সম্ভব নয়। তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তির হাশর হবে সেই ব্যক্তির সাথে, যাকে সে পছন্দ করে।


৩৬৯. হযরত আনাস (রা) বর্ণনা করেন, একবার জনৈক বেদুঈন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলঃ কিয়ামত কবে হবে? রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ সে জন্যে তুমি কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? লোকটি বললো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা। তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালোবাস, তার সঙ্গেই থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)

অপর এক বর্ণনায় আছে, লোকটি বললোঃ নামায, রোযা, সাদকাহ ইত্যাদিসহ বেশি কিছু সংগ্রহ করতে পারিনি; কিন্তু আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি।


৩৭০. হযরত ইবনে মাসউদ বর্ণনা করেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! এক ব্যক্তি কোন গোষ্ঠীকে ভালোবাসে কিন্তু তাদের সাথে মিলিত হতে পারছে না। এই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার কি অভিমত? রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে সে (কিয়ামতের দিন) তারই সঙ্গী হবে। (বুখারী ও মুসলিম)


৩৭১. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সোনা-রূপার খনির মতো মানুষও এক প্রকার খনি। তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলী যুগে শ্রেয় ছিলে, ইসলামী যুগেও তারাই হবে শ্রেয়, যখন তারা (দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে) সম্যক জ্ঞানের অধিকারী হবে। রূহগুলো সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মতো। এদের মধ্যে গুণ-বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে যারা পরস্পরের কাছাকাছি ছিল তারা একত্রিত হয়ে গেল। আর যারা গুণ-বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পরস্পরে পৃথক ছিল, তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। (বুখারী ও মুসলিম)


৩৭২. হযরত উসাইর ইবনে আমর (রা) (যাকে ইবনে জাবেরও বলা হয়) বলেনঃ উমর (রা)-এর কাছে ইয়েমেনের অধিবাসীদের তরফ থেকে কোন সাহায্যকারী দল এলে তিনি তাদের জিজ্ঞেস করতেনঃ তোমাদের মধ্যে উয়াইস ইবনে আমর আছে কি? শেষ পর্যন্ত (একদিন) উয়াইস (রা) এসে পৌঁছলেন। উমর তাকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি উয়াইস ইবনে আমর? উয়াইস বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি ‘মুরাদ’ গোত্রের উপগোত্র ‘কারণে’র সদস্য? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল যা থেকে আপনি আরোগ্য লাভ করেছিলেন এবং আপনার মাত্র এক দেরহাম পরিমাণ জমি অবশিষ্ট আছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। উমর আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনার মা বেঁচে আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। উমর বললেনঃ আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ‘ইয়েমেনের সাহায্যকারী দলের সাথে উয়াইস ইবনে আমের নামক এক ব্যক্তি তোমাদের কাছে আসবে। সে মুরাদ গোত্রের উপগোত্র ‘কারণে’র একজন সদস্য। সে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হবে এবং তার থেকে সে মুক্তিও পাবে। তবে শুধু এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা অবশিষ্ট থাকবে। মাতা জীবিত আছে এবং সে তার খুবই অনুগত। সে আল্লাহর ওপর ভরসা করে কোন কিছু শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করে দেন। তুমি যদি তাকে দিয়ে তোমার গুনাহ মার্জনার জন্য দোআ করানোর সুযোগ পাও, তবে তা-ই করো।’ (উমর বললেন), কাজেই আপনি আমার গুনাহর ক্ষমার জন্য দোয়া করুন। সুতরাং তিনি (উয়াইস) তার (‌উমরের) গুনাহর জন্য ক্ষমা চেয়ে দোয়া করলেন।

উমর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কোথায় যাওয়ার ঈচ্ছা পোষণ করেন? তিনি বললেন, আমি কুফা যাওয়ার আশা রাখি। তিনি বললেন, আমি সেখানকার গর্ভণরকে আপনার (সাহায্যের) জন্য লিখে জানাই? তিনি বললেনঃ গরীব নিঃস্বদের সঙ্গে বসবাস করাই আমার কাছে শ্রেয়তর। পরবর্তী বছর কুফার এক বিশিষ্ট ব্যক্তি হজ্জে এলো। তার সাথে উমরের দেখা হলে তিনি উয়াইস সম্পর্কে তাকে কিছু প্রশ্ন করলেন। সে বলল, আমি তাকে অত্যন্ত দ্বীন-হীন অবস্থায় দেখে এসেছি; তার ঘরটা অত্যন্ত জীর্ন অবস্থায় আছে এবং তার জীবনোপকরণ খুবই সামান্য। উমর (রা) বললেন, আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ‘ইয়েমেনের সাহায্যকারী উয়াইস ইবনে ‘আমের নামে এক ব্যক্তি তোমাদের কাছে আসবে। সে মুরাদ গোত্রের উপগোত্র ‘করণ’ বংশের একজন সদস্য। তার দেহে কুষ্ঠ রোগ থাকবে এবং তা থেকে সে মুক্তি লাভ করবে। তবে এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা তার অবশিষ্ট থাকবে। তার মা জীবিত আছে এবং সে তার খুবই অনুগত। সে আল্লাহর ওপর ভরসা করে কোন কিছুর জন্য শপথ করলে তিনি তা পূরণ করে দেন। তুমি যদি তোমার অপরাধ ক্ষমার জন্য তাকে দিয়ে দোআ করাতে পারো তবে তা-ই করো।’

লোকটি হেজায থেকে ফিরে এসে উয়াইসের কাছে গিয়ে বললোঃ ‘আমার গুনাহ মার্জনার জন্য একটু দোয়া করুন’।   তিনি (উয়াইস) বললেনঃ ‘আপনি এই মাত্র এক বরকতময় সফর থেকে ফিরে এসেছেন। সুতরাং আপনিই আমার গুনাহ মার্জনার জন্য দোয়া করুন।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ আপনি কি উমরের সাথে সাক্ষাত করেছন? সে বলল, হ্যাঁ। উয়াইস তার জন্য দোআ করলেন। লোকেরা উয়াইসের মর্যাদার কথা জেনে গেলেন। উয়াইস সেখান থেকে অন্যত্র চলে গেলেন। (মুসলিম)

মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় উসাইর ইবনে জাবির (রা) বলেনঃ একদা কুফার অধিবাসীরা উমর (রা)-এর কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠালো। দলের অন্তর্ভুক্ত এক ব্যক্তি প্রায়শই উয়াইস সম্পর্কে বিদ্রুপাত্মক কথাবার্তা বলত। উমর (রা) বললেনঃ এখানে ‘কারণ’ বংশের কেউ আছে কি? তখন সেই লোকটি উঠে এল। উমর (রা) বললেনঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইয়েমেন থেকে উয়াইস নামে এক ব্যক্তি তোমার কাছে আসবে। সে তার মাকে ইয়েমেনে একাকী রেখে আসবে। সে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হবে এবং আল্লাহর কাছে দোআ করবে। তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। শুধু এক দীনার কিংবা এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা ছাড়া তোমাদের যে কেউ তার সাক্ষাত পাবে। সে যেন তাকে দিয়ে তার গুনাহ মুক্তির জন্য দো’আ করায়।

মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় উমর (রা) বলেন, আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘তায়েবী বা পরবর্তী লোকদের উয়াইস নামে এক পূণ্যবান ব্যক্তির আর্বিভাব ঘটবে। তার মা (এখন) জীবিত আছে। তার দেহে সাদা কুষ্ঠের দাগ থাকবে। তোমরা যেন নিজেদের অপরাধ মার্জনার জন্য তাকে দিয়ে দো’আ করও।


৩৭৩. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) বলেন আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উমরাহ করার অনুমতি চাইলাম। তিনি আমায় অনুমতি দিয়ে বললেনঃ হে ছোট ভাই! তোমার দো’আর মধ্যে আমাদেরকে ভুলে যেও না।’ (উমর বললেন) তিনি এমন একটি কথা বললেন, যার বদলে গোটা দুনিয়াটা আমায় দিয়ে দিলেও আমি খুশি হতাম না। অপর এক বর্ণনা মতে তিনি বলেন, ‘হে ছোট ভাই! তোমার দো’আর মধ্যে আমাদেরকেও শামিল করো।’ (আবু দাউদ ও তিরমিযী)


৩৭৪. হযরত ইবনে উমর বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীর পিঠে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে (মাঝে মাঝে) কুবা পল্লীতে যেতেন এবং সেখানকার মসজিদে ঢুকে দু’রাকায়াত নামায আদায় করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)

অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক শনিবার বাহনে চেপে কিংবা পায়ে হেঁটে কুবা মসজিদে যেতেন। ইবনে উমর (রা)-ও এরূপ করতেন।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?