পরস্পরের দোষত্রুটি অনুসন্ধান করা ও গোপনে কান পেতে শ্রবণ করা নিষেধ

পরস্পরের দোষত্রুটি তালাশ করা ও ওঁৎ পেতে কথা শুনা নিষেধ

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“তোমরা একে অপরের দোষ তালাশ কর না।” (সূরা-হুজুরাতঃ ১২)

তিনি আরো বলেছেনঃ

“যারা মু’মিন পুরুষ ও নারীদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয় তারা একটা অতি বড় মিথ্যা দোষ ও সুস্পষ্ট অপরাধের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়।” (সূরা-আহযাবঃ ৫৮)

 

১৫৭১. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, সাবধান! অযথা ধারণা করা হতে বিরত থেকো। কেননা অযথা ধারণা পোষণ করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। মানবের দোষ অনুসন্ধান কর না; গুপ্তচর বৃত্তি কর না। পরস্পর গর্ব কর না। পরস্পর হিংসা পোষণ করো না; তোমার পরস্পর মতবিরোধ কর না। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে থাক, যেভাবে তোমাদের আদেশ করা হয়েছে। এক মুসলমান আর এক মুসলমানের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করতে পারে না, তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না এবং অবজ্ঞা করতে পারে না। তাকওয়া ও খোদাভীতি এখানে। এই বলে তিনি তাঁর মুবারক বুকের দিকে ইশারা করলেন। কোন ব্যক্তি মন্দ হবার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত, মান-মর্যাদা ও ধন-সম্পদ হরণ করা হারাম। মহান আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহরার দিকে তাকাবেন না; বরং তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি তাকাবেন। আর এক বর্ণনায় রয়েছে পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ কর না, ছিদ্রান্বেষণ কর ন, দোষ অনুসন্ধান করে বেড়াবে না, অন্যের ওপর মিথ্যা প্রতারণা মূলক দর কষাকষি কর না। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই সম্পর্কে গড়ে তোল। অপর বর্ণনায় রয়েছে, সম্পর্ক ছিন্ন করো না, খোজঁ-খবর কর না, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার কর। একজনের ক্রয় বিক্রয়ের উপর দিয়ে অপরজন যেন ক্রয় বিক্রয় না করে। (মুসলিম)


১৫৭২. হযরত মুয়াবিয়া ( রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স) কে বলতে শুনেছি, যদি তুমি মুসলমানের দোষ অনুসন্ধান করতে যাও, তবে তুমি তাদেরকে কোন ফ্যাসাদে জড়িয়ে ফেলবে। অথবা তাদেরকে ফ্যাসাদে জড়িয়ে ফেলার উপক্রম করবে। এটি একটি সহীহ হাদীস। (আবু দাঊদ)


১৫৭৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন। তার কাছে এক ব্যক্তিদের নিয়ে আসা হল। বলা হল, এ অমুক ব্যক্তি। এর দাড়ি হতে সরাব টপকিয়ে পড়ছে (গন্ধ আসছে)।  আবদুল্লাহ (রা) বললেন, আমাদেরকে মানবদের দোষ খুঁজে বের করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যখন আমাদের সামনে এ জাতীয় কিছু সুস্পষ্ট হয়ে যাবে তখন আমরা পাকড়াও করতে পারি। হাদীসটি সহীহ। (আবু দাঊদ)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?