তাড়াতাড়ি ইফতার করার গুরুত্ব এবং যা দিয়ে ইফতার করতে হবে ও ইফতারের পর যা পাঠ করতে হবে

দ্রুত ইফতার করার ফযীলত  এবং যা দিয়ে ইফতার করতে হবে ও ইফতারের পর যা পাঠ করতে হবে

১২৩৪. হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন দ্রুত (সময় হওয়ার সাথে সাথে) ইফতার করবে ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৩৫. হযরত আবু আতীয়্যা (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মাসরুক (রা) হযরত আয়েশা (রা) নিকট গেলাম। মাসরুক (রা) বললেনঃ মুহাম্মদ (সা)-এর দু’জন সাহাবী সৎকাজ করার ব্যাপারে কোন প্রকার গড়িমসি করেন না। তাদের একজন দ্রুত মাগরিবের নামায পড়েন এবং দ্রুত ইফতার করেন। আর অন্যজন বিলম্বে মাগরিব পড়েন এবং বিলম্বে ইফতার করেন। হযরত আয়েশা (রা) জিজ্ঞেস করেনঃ কে দ্রুত মাগরিব পড়েন এবং ইফতার করেন? মাসরুক (রা) জবাব দিলেনঃ আবদুল্লাহ অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ। হযরত আয়েশা (রা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা) এরূপই করতেন। (মুসলিম)


১২৩৬. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ মহান প্রতাপশালী আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দাদের মধ্যে যারা দ্রুত ইফতার করে তারাই আমার নিকট অধিকতর প্রিয়। (তিরমিযী)


১২৩৭. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যখন রাত ঐ (পূর্ব) দিক থেকে আগমন করবে এবং দিন ঐ (পশ্চিম) দিক থেকে চলে যাবে আর সূর্য ডুবে যাবে, তখন রোযাদার ইফতার করবে। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৩৮. হযরত আবু ইবরাহীম আবদুল্লাহ ইবনে আবু আউফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি ছিলেন রোযাদার। যখন সূর্য ডুবে গেলো। তিনি দলের এক ব্যক্তিকে বললেনঃ হে ওমুক! সাওয়ারী থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতুগুলো বানাও। লোকটি বললোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! সাঁঝ হতে দিন। তিনি বললেনঃ নেমে যাও, আমাদের জন্য ছাতু বানাও। লোকটি বললোঃ এখনো তো দিন বাকি আছে। তিনি (আবার) বললেনঃ নেমে যাও, আমাদের জন্য ছাতু বানাও। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আউফা (রা) বলেনঃ অতঃপর সে ব্যক্তি নেমে ছাতুগুলো বানালো। রাসূলুল্লাহ (সা) তা পান করলেন এবং হাত দিয়ে পূর্ব দিকে ইশারা করে বললেনঃ যখন রাতকে ওদিক থেকে এগিয়ে আসতে দেখবে তখন রোযাদারের রোযা ইফতার করা উচিত, আর হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৩৯. হযরত সালমান ইবনে আমির দ্বারবী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সা) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন রোযা ইফতার করবে তখন তার খেজুর দিয়ে ইফতার করা উচিত। তবে যদি সে খেজুর না পায় তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কারণ তা পবিত্র। (আবু দাউদ ও তিরমিযী) ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


১২৪০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) নামাযের পূর্বে কয়েকটি তাজা তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তিনি তাজা খেজুর না পেতেন, তবে শুকনো খেজুর দিয়ে। আর যদি তাও না পেতেন, তবে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন। (আবু দাঊদ ও তিরমিযী)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?