জামায়াতের সাথে নামায কয়েম করার গুরুত্ব

জামায়াতের সাথে নামায আদায়ের ফযীলত

১০৬৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ জামাআতের সাথে নামায পড়া একাকী নামায পড়া অপেক্ষা ২৭ (সাতাশ) গুণ বেশি মর্যাদার অধিকারী।   (বুখারী ও মুসলিম)


১০৬৬. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জামাআতের সাথে নামায তার ঘরে বা বাজারের নামায পড়া অপেক্ষা ২৫ গুণ বেশি সওয়াবের অধিকারী। আর এটা তখন হয় যখন সে ওযূ করার সময় ভাল করে ওয়ু করে তারপর নামাযের উদ্দেশ্যে সে বের হয়। এ অবস্থায় সে যতবার পা ফেলে তার প্রতিবারের পদক্ষেপে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে গুনাহ ক্ষমা করা হয়। তারপর যখন সে নামায পড়তে থাকে, ফিরিশতাগণ তার জন্য মাগফিরাতের দু’আ করতে থাকে। যতক্ষণ সে নামাযের মুসাল্লার ওপর থাকে এবং তার ওযু না ভাঙ্গে। ফিরিশতাদের সেই দু’আর শব্দাবলী হচ্ছেঃ “হে আল্লাহ, এ ব্যক্তিকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! এর ওপর রহম করুন।” আর যতক্ষণ সে নামাযের জন্য অপেক্ষা করে ততক্ষণ সে নামাযের মধ্যে থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)


১০৬৭. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক অন্ধ ব্যক্তি নবী করীম (সা)-এর নিকট এসে বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার এমন কোন ব্যক্তি নেই, যে আমাকে মসজিদে আনতে পারে। কাজেই রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন যাতে তিনি মসজিদে না এসে ঘরেই নামায পড়তে পারেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তারপর যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি নামাযের আযান শুনতে পাও? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি আযানের আওয়াজে সাড়া দাও। অর্থাৎ জামাআতে শরীক হবে।  (মুসলিম)


১০৬৮. হযরত আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। বলা হয়েছে, এ আবদুল্লাহ হচ্ছে আমর ইবনে কাইস মুয়াযযিন, ইবন উম্মে মাকতুম (রা) নামে পরিচিত। তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! মদীনায় বিষাক্ত প্রাণী ও হিংস্র পশুর যথেষ্ট উৎপাত দেখা যায়! একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ তুমি যদি “হাইয়া আলাস সালাহ হাইয়া আলাস ফালাহ”, (নামাযে চলে এস! কল্যাণের দিকে এস!) শুনতে পাও তাহলে নামাযের জন্য চলে এস।   (আবু দাঊদ )


১০৬৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আমার প্রাণ যাঁর হাতে তাঁর কসম করে বলছি, অবশ্যি আমি সংকল্প করেছি, আমি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেব, তারপর আমি নামাযের আযান দেয়ার জন্য হুকুম দেব, তারপর আযান দেবে। তারপর আমি এক ব্যক্তিকে হুকুম করব সে লোকদের নামায পড়াবে। এরপর আমি সে লোকদের দিকে যাব, যারা নামাযের জামাআতে হাযির হয়নি এবং তাদের বাড়ি ঘরসমূহ জ্বালিয়ে দেব।  (বুখারী ও মুসলিম)


১০৭০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কাল, (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে মুসলিম হিসেবে সাক্ষাত করতে ভালোবাসে তার এই নামাযগুলোর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া উচিত, যেগুলোর জন্য আযান দেয়া হয়। কারণ আল্লাহ তোমাদের নবী করীম (সা)-এর জন্য কিছু হিদায়াতের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নামায এই হিদায়াতের পদ্ধতির মধ্যে শামিল। অতএব যদি তোমরা নিজেদের ঘরেই নামায পড়তে থাক, যেমন এ ব্যক্তি জামাআত ছেড়ে দিয়ে নিজের ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর পদ্ধতি পরিত্যাগ করলে। আর তোমাদের নবীর পদ্ধতি পরিত্যাগ করলে তোমরা অবশ্যই গোমরাহীতে লিপ্ত হয়ে গিয়েছ। আর আমরা আমাদের লোকদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, একমাত্র পরিচিত মুনাফিক ব্যতীত আর কেউ জামাআত ত্যাগ করত না। আর কোন কোন লোক তো এমনও ছিল যে, দু’জন লোকের সহায়তায় তাঁকে আনা হত এবং নামাযের কাতারের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। (মুসলিম)

মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ অবশ্যি রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের হিদায়াতের বিধান শিখিয়েছেন এবং হিদায়াতের অন্যতম বিধান হচ্ছে যে মসজিদে আযান দেয়া হয় সেখানে গিয়ে (জামাআতে) নামায আদায় করা।


১০৭১. হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ যে গ্রামে বা প্রান্তরে তিনজন লোকও অবস্থান করে অথচ তারা জামাআত কায়েম করে নামায পড়ে না, তাদের ওপর শয়তান সাওয়ার হয়ে যায়। অতএব জামাআতের সাথে নামায আদায় করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কারণ দল ছুট একক বকরীকেই বাঘে ধরে খায়।   (আবু দাঊদ )


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?