ঘুমানোর পূর্বে

ঘুমোনোর পূর্বে সূন্নাহ সমূহ হচ্ছে-

১। ঘুমোতে যাওয়ার দু‘য়া পাঠ-

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমার নাম নিয়েই আমি শয়ন করছি এবং তোমার নাম নিয়েই উঠবো।’

২। ইখলাস, ফালাক্ব পাঠ করে তিনবার দেহকে মাসেহ করা।১৯০

৩। সূরা বাক্বারাহ এর শেষ দুই পাঠ করা। যে এগুলো পাঠ করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।১৯১

৪। আয়াতুল কুরসী পাঠ করা। যে তা পাঠ করবে সে আল্লাহর নিকট থেকে নিরাপত্তা পাবে এবং শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।১৯২

এছাড়াও আরও অনেকগুলো দু‘আ রয়েছে যা ঘুমোতে যাওয়ার সময় পাঠ করা জন্য।

১। সহীহ আল বুখারী ও মুসলিমে রয়েছেঃ

অর্থঃ ‘হে রব! তোমার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশকে শয্যায় স্থাপন করছি (আমি শয়ন করছি), আর তোমারই নাম নিয়ে আমি তাকে উঠাব (শয্যা ত্যাগ করবো) যদি তুমি (আমার নিদ্রিত অবস্থায়) আমার প্রাণ কবজ করো, তবে তুমি তাকে ছেড়ে দাও (বাঁচিয়ে রাখো) তাহলে সে অবস্থায় তুমি তার হিফাজত করো যেমনভাবে তুমি তোমার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হিফাজত করে থাকো।’১৯৩

২। সহীহ কালিমুত তাইয়্যেব এ রয়েছে-

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই জান। আকাশ ও পৃথিবীর তুমি সৃষ্টিকর্তা। তুমি সব বস্তুর প্রতিপালক এবং সমস্ত কিছুর মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। আমি আমার প্রবৃত্তির অনিষ্ট হতে আর শয়তান এবং তার শিরকের অনিষ্ট হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করছি। আমি নিজের অনিষ্ট হতে এবং কোন মুসলিমের অনিষ্ট করা হতে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি।’

৩। সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিতঃ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমি নিজেকে তোমার প্রতি সঁপে দিলাম, আর আমার সমগ্র কার্যμম তোমার উদ্দেশেই নিবেদন করলাম, আমার মুখমন্ডল তোমার দিকে স্থাপন করলাম, আমার পৃষ্টদেশকে তোমার দিকেই ঝুকিয়ে দিলাম, আর এ সমস্তই করলাম তোমার রহমতের আশায় এবং তোমার শাস্তির ভয়ে। কোন আশ্রয় নেই এবং মুক্তির কোন উপায় নেই একমাত্র তোমার আশ্রয় এবং উপায় ছাড়া, আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি তোমার সেই কিতাবের প্রতি যা তুমি নাযিল করেছো এবং তোমার সেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যাকে তুমি প্রেরণ করেছো।’

৪। সহীহ মুসলিমে রয়েছে বর্ণিতঃ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছো আর তুমি উহার মৃত্যু ঘটাবে ৯অতএব) তার জীবন ও মরণ যেন একমাত্র তোমার জন্য হয়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখো তাহলে তুমি তার হিফাযত করো, আর যদি তার মৃত্যু ঘটাও নিদ্রাবস্থায় তবে তাকে মাফ করে দিও। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থণা করছি।’

৫। সুনান আবু দাউদ ও তিরমিযি-তে বর্ণিতঃ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার আযাব হতে রক্ষা করো সেই দিবসে যখন তুমি তোমার বান্দাদিগকে পুনরুত্থান করবে।’

৬। সহীহ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিতঃ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি সপ্ত আকাশ মন্ডলরি রব! এহা মহীয়ান আরশের রব এবং প্রত্যেক বস্তুর রব। হে আল্লাহ! বীজ ও আঁটি চিরে চারা ও বৃক্ষের উদ্ভব ঘটাও তুমি! তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনের নাযিলকারী তুমি! আমি প্রত্যেক বস্তুর অনিষ্ট হতে তোমার নিকটেই আশ্রয় প্রার্থণা করি, তোমার হাতে রয়েছে সকল বস্তুর ভাগ্য। হে আল্লাহ তুমি অনাদি, তোমার পূর্বে কোন কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না, তুমি অনন্ত, তোমার পরে কোন কিছুই থাকবে না, তুমি প্রকাশমান, তোমার উপরে কিছুই নেই, তুমি অপ্রকাশ্য, তোমার চেয়ে নিকটবর্তী কিছুই নেই। হে রব! তুমি আমার সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দাও, আর আমাকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত রাখো।’

৭। সহীহ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিতঃ


অর্থঃ ‘সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদিগকে আশ্রয় প্রদান করেছেন। এমন বহুলোক রয়েছে যাদের পরিতৃপ্ত করার কেউই নেই, যাদের আশ্রয় দানকারী কেউই নেই।’

৮। সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিতঃ

৩৩ বার করে পড়তে হবে।

ঘুমোতে যাওয়ার আদা’ব হচ্ছে-

১। পবিত্র অবস্থায় ওযু করে বিছানায় যাওয়া।১৯৪

২। ডান কাতে শয়ন করা।১৯৫

৩। ডান হাতকে ডান গালের নীচে স্থাপন করা।১৯৬

৪। বিছানাকে ঝারা।১৯৭

৫। সূরা কাফিরুন পাঠ করা। যা শিরক থেকে মুক্ত করে।১৯৮

 

 

 


১৮৯ আল বুখারী হা/৬৩২৪।
১৯০ আল বুখারী হা/৫০১৭।
১৯১ আল বুখারী হা/৫০০৯।
১৯২ আল বুখারী হা/৫০১০।
১৯৩ মুসলিম- ৪/২০৮৪
১৯৪ আল বুখারী হা/২৭১০।
১৯৫ আল বুখারী হা/২৭১০।
১৯৬ আল বুখারী হা/৫০৪৫।
১৯৭ আল বুখারী হা/২৭১৪।
১৯৮ আবু দাউদ হা/৫০৫৫, তিরিমিজি হা/৩৪০৩।

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?