খাবারের প্রারম্ভেই ‘বিসমিল্লাহ’ ও শেষে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’র হাকীকত সম্পর্কিত বর্ণনা

খাওয়ার আদব

খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ ও শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা

৭২৮. উমার ইবনে আবু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে বলেছেনঃ বিসমিল্লাহ বলো, ডান হাতে খানা খাও এবং তোমার নিকটের খাবার থেকে খাও। (বুখারী, মুসলিম)


৭২৯. আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খানা খায়, তখন শুরুতে যেন আল্লাহ তা’আলার নাম নেয়। সে শুরুতে আল্লাহ তা’আলার নাম নিতে ভুলে গেলে যেন বলেঃ বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু (প্রথমে ও শেষে আল্লাহর নামে)।

ইমাম আবু দাঊদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


৭৩০. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন লোক তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহ তা’আলার নাম স্মরণ করে এবং খানা খেতে আল্লাহর নাম নেয়, তখন শয়তান তার সাথীদের বলেঃ তোমাদের জন্য (এ ঘরে) রাত কাটাবার অবকাশ নেই এবং খাবারও নেই। আর যখন সে আল্লাহ তা’আলার নাম না নিয়েই ঘরে প্রবেশ করে, তখন শয়তান বলেঃ তোমাদের রাত কাটাবার ব্যবস্থা হয়ে গেল। সে খানা খাওয়ার সময়ও আল্লাহ তা’আলার নাম না নিলে শয়তান বলেঃ তোমাদের রাত কাটাবার ও রাতের খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে গেল।  (মুসলিম)


৭৩১. হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে আমরা কখনো আহারে একত্রিত হলে, রাসূলুল্লাহ (সা) যতক্ষণ পর্যন্ত খানা শুরু না করতেন, আমরা খানায় হাত দিতাম না। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে খানা খেতে উপস্থিত হলাম। এমন সময় একটি মেয়ে এসে (এমনভাবে) খাদ্যের উপর ঝুঁকে পড়ল (যেন সে ক্ষুধায় অত্যন্ত কাতর)।   সে খাবারে হাত রাখতে যাচ্ছিল, অমনি রাসূলুল্লাহ (সা) তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর আসে এক বেদুঈন। সেও যেন খাবারের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা) তারও হাত ধরে ফেললেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ যে খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না, শয়তান তাকে (নিজের জন্য) হালাল করে নেয়। শয়তান এ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিল এর দ্বারা তার নিজের জন্য খাদ্যকে হালাল করার জন্য। আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর শয়তান এ বেদুঈনকে নিয়ে আসে এর সাহায্যে তার নিজের জন্য খাদ্য হালাল করার উদ্দেশ্যে। আমি তারও হাত ধরে ফেললাম। যেই সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! এ দুইজনের হাতের সাথে শয়তানের হাতও আমার হাতের (মুষ্টিবদ্ধ) আছে। তারপর তিনি আল্লাহর নাম নিলেন (বিসমিল্লাহ পড়লেন) এবং খানা খেলেন। (মুসলিম)


৭৩২. উমাইয়্যা ইবনে মাখশী সাহাবী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বসা ছিলেন এবং এক লোক আল্লাহর নাম না নিয়েই খানা খাচ্ছিল। তার খানা শেষ হতে তখন মাত্র এক লোকমা বাকি। এ শেষ লোকমাটি মুখে তুলতে সে বলল, “বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু” (আল্লাহর নাম নিচ্ছি আমি খানার শুরু এবং শেষভাগে)।   রাসূলুল্লাহ (সা) হেসে দিলেন। তিনি বলেনঃ শয়তান বরাবর তার সাথে খানা খাচ্ছিল। সে আল্লাহর নাম লওয়া মাত্র, যা কিছু শয়তানের পেটে ছিল, সব বমি করে ফেলে দিল। (আবু দাঊদ, নাসাঈ)


৭৩৩. আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর ছয়জন সাহাবীর সাথে খানা খাচ্ছিলেন। এক বেদুঈন এসে দুই লোকমাতেই সব খানা শেষ করে ফেলল। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ লোকটি যদি আল্লাহর নাম নিয়ে খেত, তাহলে এ খানা তোমাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হত।৮৯

ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


৭৩৪. আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) যখন দস্তরখান উঠাতেন তখন বলতেনঃ “আল্‌হামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহি গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়ালা মুসতাগনান আনহু রাব্বানা।” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রচুর প্রশংসা, পাক পবিত্র, বরকতময় সব সময়ের জন্যই প্রশংসা, এমন প্রশংসা যা যথেষ্ট হবার নয়, যা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়াও যায় না)।  (বুখারী)


৭৩৫. মু’আয ইবনে আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি আহার শেষে বলল, “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আত’আমানী হাযা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাওলিন মিন্নী ওয়ালা কুওয়াতিন” (সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাকে এ খাবার খাওয়ালেন, আমাকে রিযিক দিলেন আমার কোনরূপ চেষ্টা ও শক্তি ছাড়াই), তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

ইমাম আবু দাঊদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?