কাতারের ফযীলত এবং সামনের কাতারসমূহ পরিপূর্ণ করার, সেসব সমান করার ও দু’জনের মধ্যখানে ব্যবধান না রেখে মিলে দাঁড়ানো

প্রথম কাতারের ফযীলত এবং আগের কাতারগুলি পুরা করা, কাতার সমান করা ও দু’জনের মাঝখানে
ব্যবধান না রেখে মিলে  দাঁড়ান

১০৮৩. হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ তোমরা কি তেমনিভাবে সারিবদ্ধ হবে না যেমন ফিরিশতাগণ তাদের প্রতিপালকের সামনে সারিবদ্ধ হয়? আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! ফিরিশতাগণ তাদের প্রতিপালকের সামনে কিভাবে সারিবদ্ধ হয়? তিনি বলেছেনঃ তাঁরা সামনের কাতারগুলো পুরো করে এবং দু’জনের মধ্যে কোন প্রকার ফাঁক না রেখে লাইনে মিলেমিশে দাঁড়িয়ে যায়।  (মুসলিম)


১০৮৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ লোকেরা যদি জানত আযান ও প্রথম সারিতে দাঁড়ানোর মধ্যে কি আছে (কি পরিমাণ সাওয়াব আছে) আর লটারীর মাধ্যমে ব্যতীত তা অর্জন করার দ্বিতীয় কোন পথ না থাকত তবে তারা অবশ্যই লটারী করত। (বুখারী ও মুসলিম)


১০৮৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ পুরুষদের সারিগুলোর মধ্যে প্রথম সারিটি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা উত্তম। আর শেষ সারিটি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা মন্দ। আর মহিলাদের সারিগুলোর মধ্যে শেষ সারিটি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা উত্তম এবং প্রথম সারিটি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা মন্দ। (মুসলিম)


১০৮৬. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর সাহাবীদের দেখতে পেলেন তারা (নামাযের) কাতারের মধ্যে পিছনে বসে যাচ্ছেন, তিনি তাদেরকে বললেনঃ সামনে এগিয়ে এসো এবং আমার অনুসরণ কর। আর তোমাদের পেছনে যারা আছে তাদের তোমাদের অনুসরণ করা উচিত। কোন জাতি পেছনে থাকতে থাকতে এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যে, অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে পেছনে ফেলে দেন। (মুসলিম)


১০৮৭. হযরত আবু মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) নামাযে আমাদের কাঁধে হাত দিয়ে বলতেনঃ সমান হয়ে দাঁড়াও, আগে-পিছে হয়ে যেয়ো না, তাহলে তোমাদের মনের মধ্যে অনৈক্য দেখা দেবে। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোকদের আমার নিকটবর্তী থাকা উচিত। তারপর থাকবে তারা যারা বিচক্ষণতার দিক দিয়ে তাদের নিকটবর্তী। তারপর তারা যারা তাদের নিকটবর্তী। (মুসলিম)


১০৮৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমাদের (নামাযের) কাতারগুলো সোজা ও সমান কর। কারণ কাতার সোজা ও সমান করা নামাযকে পূর্ণতা দান করার অন্তর্ভুক্ত। (বুখারী ও মুসলিম)

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ “কারণ কাতারগুলো সোজা ও সমান করা নামায কায়িম করার অন্তর্ভুক্ত।”


১০৮৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামায দাঁড়িয়ে গিয়েছিল (নামাযের ইকামাত শেষ হয়ে গিয়েছিল) এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেনঃ তোমাদের কাতারগুলোকে সোজাভাবে কায়েম কর এবং মিলেমিশে দাঁড়াও। কারণ আমি তোমাদের আমার পেছন থেকেও দেখি।

ইমাম বুখারী এই শব্দসহ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম বর্ণিত হাদিসটির অর্থ একই। তবে বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ “আমাদের প্রত্যেকেই তার পাশের জনের কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নিত।”


১০৯০. হযরত নু’মান ইবনে বশীর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কাতারগুলো অবশ্যই সোজা করবে। অন্যথায় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের চেহারার মধ্যে বিরোধিতা সৃষ্টি করে দিবেন। (বুখারী ও মুসলিম)

আর মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ নিশ্চয়ই রাসূল (সা) আমাদের কাতারগুলো সোজা করতেন, যেন তার সাথে তীর সোজা করছেন। এভাবে করতে করতে এক সময় তিনি দেখলেন, আমরা এ কাজটি শিখে গিয়েছি। তারপর একদিন তিনি বাইরে বের হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতে যাচ্ছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তিকে দেখলেন, তার বুক কাতারের বাইরে বের হয়ে আছে। তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহর বান্দারা! কাতার সোজা কর, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারার মধ্যে বিরোধিতা সৃষ্টি করে দেবেন।”


১০৯১. হযরত বারা ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কাতারের মাঝখান দিয়ে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যেতেন এবং আমাদের বুকে ও কাঁধে হাত লাগিয়ে এবং বলতেনঃ আগে পিছে হয়ো না, তাহলে তোমাদের মনও বিভিন্ন হয়ে যাবে। তিনি (আরো) বলতেনঃ “অবশ্য আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ প্রথম কাতারগুলোর ওপর রহমত বর্ষণ করেন।” (আবু দাঊদ)


১০৯২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, নামাযের জন্য কাতারবদ্ধ হও, কাঁধের সাথে কাঁধ মিলাও, ফাঁক বন্ধ কর, নিজের ভাইদের হাতের প্রতি কোমল হও এবং শয়তানের জন্য পথ ছেড়ে দিও না। যে ব্যক্তি কাতার মিলায় আল্লাহ তাকে (নিজের রহমতের সাথে) মেলাবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার ভাঙ্গে আল্লাহ তাকে (নিজের রহমত থেকে) কেটে দেবেন। (আবু দাঊদ)


১০৯৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমাদের কাতারগুলোকে মিলাও এবং পরস্পর নিকটবর্তী হয়ে যাও, আর কাঁধের সাথে কাঁধ মিলাও। সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্য আমি শয়তানদেরকে কাতারের মধ্যে এমনভাবে ঢুকতে দেখেছি যেমন ছোট কালো ছাগলের বাচ্চা ঢোকে। (আবু দাঊদ)


১০৯৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ প্রথম কাতার পূর্ণ কর, তারপর তারপরের কাতার। যদি কোন কমতি থাকে তাহলে তা থাকবে শেষ কাতারে। (আবু দাঊদ)


১০৯৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ অবশ্য আল্লাহ ডাইনের কাতারগুলোর ওপর রহম বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণ মাগফিরাত কামনা করেন। (আবু দাঊদ)

ইমাম আবু দাঊদ ইমাম মুসলিমের মানের সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। তবে এর সনদে এমন একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মতপার্থক্য রয়েছে।


১০৯৬. হযরত বারা ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পেছনে নামায আদায় করতাম তখন আমরা তাঁর ডান দিকে দাঁড়াতে পছন্দ করতাম, যাতে তিনি (মুখ ফিরিয়ে বসার সময়) আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসেন। অতঃপর একদিন আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ “হে আমার প্রভু! আপনার বান্দাদেরকে যেদিন পুনর্বার উঠাবেন বা একত্রিত করবেন সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করুন।” (মুসলিম)


১০৯৭. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ ইমামকে মাঝখানে রাখ এবং কাতারের মাঝখানের ফাঁক বন্ধ কর। (আবু দাঊদ)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?