আযানের গুরুত্ব

আযানের ফযীলত

১০৩৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ লোকেরা যদি জানত আযান দেয়া ও নামাযের প্রথম কাতারের মধ্যে কি আছে (কি পরিমাণ সওয়াব ও মর্যাদা আছে) তবে তারা লটারীর মাধ্যম ব্যতীত সেগুলো হাসিল করতে পারত না। অতএব তারা অবশ্যই লটারীর ব্যবস্থা করত। আর যদি তারা জানত নামাযে আগে আসার মধ্যে কি আছে (কি পরিমাণ সওয়াব ও মর্যাদা আছে) তাহলে তারা সে দিকে অগ্রবর্তী হবার জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর যদি তারা জানত এশার ও ফজরের নামাযের মধ্যে কি আছে (কি পরিমাণ সওয়াব ও মর্যাদা আছে) তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে আসতে হলেও তারা আসত।   (বুখারী ও মুসলিম)


১০৩৫. হযরত মু’আবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি। “কিয়ামতের দিন লোকদের মধ্যে মুয়াযযিনগণের ঘাড় সর্বাপেক্ষা লম্বা হবে।” অর্থাৎ তাদের মর্যাদা সর্বাপেক্ষা বেশি হবে। (মুসলিম)


১০৩৬. হযরত আবদুল্লাহ্‌ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু সা’সা’আ (রা) থেকে বর্ণিত। আবু সাঈদ খুদরী তাঁকে বলেনঃ আমি দেখছি তুমি ছাগল ও বনভূমি অধিক ভালোবাস। কাজেই যখন তুমি নিজের ছাগলগুলোর সাথে বা বনভূমির মধ্যে থাকাবস্থায় নামাযের জন্য আযান দাও তবে উচ্চৈস্বরে আযান দেবে। কারণ আযানদাতার সুউচ্চ স্বর জিন, মানুষ ও বস্তু সমষ্টির মধ্যে যারাই শুনবে কিয়ামতের দিন তারা সবাই তার জন্য সাক্ষ্য দিবে। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর থেকে একথা শুনেছি। (বুখারী)


১০৩৭. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যখন নামাযের জন্য আযান দেয়া হয় তখন শয়তান পেছনের দিকে ছুটে পালাতে থাকে। এবং তখন সে এমন জোরে বাতকর্ম করতে থাকে যার ফলে আযানের আওয়াজ শুনতে পায় না। তারপর আযান শেষ হয়ে গেলে সে ফিরে আসে। আবার যখন নামাযের জন্য ইকামাত দেয়া হয় সে পিছন দিকে ফিরে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এমনকি ইকামাত শেষ হয়ে গেলে সে আবার ফিরে আসে যাতে মানুষ ও তার নফসের মধ্যে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করতে পারে। শয়তান বলেঃ অমুক জিনিসটা স্মরণ কর, অমুক জিনিসটা মনে কর, যা ইতোপুর্বে তার স্মরণে ছিল না। এমনকি এভাবে মানুষ এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যে, তার মনে থাকে না, সে কত রাকাআত নামায পড়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)


১০৩৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছেনঃ যখন তোমরা আযান দিতে শোন তখন তার পুনরাবৃত্তি কর যা মুয়াযযিন বলে। তারপর আমার ওপর দরূদ পড়। কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ এর বদলায় তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য উসীলার প্রার্থনা কর। কারণ জান্নাতে একটি স্থান আছে, তা আল্লাহর জন্য বান্দাদের মধ্যে থেকে মাত্র এক বান্দার উপযোগী। আর আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। যে ব্যক্তি আমার জন্য উসীলার প্রার্থনা করবে তার জন্য আমার শাফা’আত ওয়াজিব হয়ে যাবে।    (মুসলিম)


১০৩৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়াযযিন যা বলে তোমরাও তেমন বল।    (বুখারী ও মুসলিম)


১০৪০. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শোনার পর বলবেঃ “আল্লাহুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ দা’ওয়াতিত তা-ম্মাতি ওয়াস সালাতিল কা-য়িমাতি আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসসীলাতা ওয়াল ফাদ্বীলাতা ও’য়াবআসহু মাকা-মাম মাহমুদানিল্লাযি ওয়া’আদতাহু”-হে আল্লাহ! এ পূর্ণাঙ্গ দু’আর প্রভু আর প্রতিষ্ঠালাভকারী নামাযের প্রভু। মুহাম্মাদ (সা) কে উসীলা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করুন এবং তাঁকে আপনার ওয়াদাকৃত মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন।” কিয়ামতের দিন তার জন্য শাফা’আত করা আমার জন্য হালাল হয়ে যাবে।   (বুখারী)


১০৪১. হযরাত সা’দ ইবনে আবু ওয়াককাস (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনে বলবেঃ “আশহাদু আল-লা ইলা- হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকালাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু রাদ্বীতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বি মুহাম্মাদিন রাসূলান, ওয়া বিল ইসলামে দীনান” (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই) তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল। আল্লাহকে রব বা প্রভু বলে মেনে নিতে, মুহাম্মাদ (সা) কে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করতে আমি সম্মত হয়েছি। তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (মুসলিম)


১০৪২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলু্‌ল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ প্রত্যাখ্যাত হয় না অর্থাৎ কবুল হয়। (আবু দাঊদ ও তিরমিযী)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?