আমানত আদায় করার নির্দেশের বিবরণ

মহান আল্লাহ বলেনঃ

‘আল্লাহ তোমাদেরকে যাবতীয় আমানত তার মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।’ (সূরা আন-নিসাঃ ৫৮)

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ

‘আমরা এ আমানতগুলো আসমান, জমিন ও পাহাড়-পর্বতের কাছে পেশ করলাম; তারা এটা বহন করতে অস্বীকৃতি জানাল, বরং তারা ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু মানুষ তা নিজের ঘাড়ে তুলে নিল। আসলে মানুষ বড়ই জালিম ও মূর্খ, এতে সন্দেহ নেই।’ (সূরা আল-আহযাবঃ ৭২)

 

১৯৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা)-এর বর্ণনামতে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুনাফিকের নিদর্শন হলো তিনটিঃ যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, কোন ওয়াদা (বা চুক্তি) করলে তার উল্টো কাজ করে। এবং (তার কাছে) কিছু আমানত রাখা হলে তার খিয়ানত করে। (বুখারী ও মুসলিম) অপর এক বর্ণনায় আছেঃ সে যদি নামায-রোযা আদায় করে এবং নিজেকে মুসলমান বলে মনে করে (তবুও সে মুনাফিক রূপেই গণ্য হবে।)


২০০. হযরত হুযাইফা বিন্‌ ইয়ামান (রা) বর্ণনা করেনঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দু’টি হাদীস বলেছেন— তার মধ্যে একটি আমি নিজেই প্রত্যক্ষ করেছি আর দ্বিতীয়টির জন্য প্রতীক্ষায় আছি। তিনি (রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে বলেনঃ প্রথমত, মানুষের হৃদয়ের গভীরে আমানত (বিশ্বস্ততা) স্থাপন করা হয়, তারপর কুরআন অবতরণ করা হয়। এভাবে মানুষ কুরআনকে জানল এবং হাদীসকেও চিনল। এরপর তিনি (রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের থেকে আমানত ও বিশ্বস্ততাকে তুলে নেয়ার ব্যাপারে বক্তব্য রাখলেন। তিনি বললেনঃ মানুষ স্বাভাবিক নিয়মে ঘুম থেকে জেগে উঠবে এবং তার অন্তর থেকে আমানত ও বিশ্বস্ততাকে তুলে নেয়া হবে। এরপর তার মধ্যে এর সামান্য প্রভাব থেকে যাবে। সে আবার স্বাভাবিক নিয়মে ঘুমিয়ে পড়বে এবং তার অন্তর থেকে বিশ্বস্ততার বাকী প্রভাবটুকুও মুছে ফেলা হবে। এরপর অন্তরের মধ্যে ফোস্কার মতো একটি চিহ্ন শুধু বাকী থাকবে। যেমন, তুমি তোমার পায়ের ওপর আগুনের একটি স্ফুলিঙ্গ রাখলে এবং তাতে চামড়া পুরো ফোস্কা পড়ল। দৃশ্যত স্থানটিকে ফোলা দেখাবে; কিন্তু তার মধ্যে কিছুই থাকবে না। (বর্ণনাকারী বলেনঃ) এরপর তিনি কাঁকর তুলে নিয়ে নিজের পায়ের ওপর ছুড়ে মারলেন। (রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ এরূপ অবস্থায় তাদের সকাল হবে এবং তারা কেনা-বেচার কাজে লিপ্ত হবে। তাদের মধ্যে আমানত রক্ষার মতো একটি লোকও পাওয়া যাবে না। এমন কি, বলা হবে– অমুক বংশে একজন আমানতদার লোক রয়েছে। এ সময় তাকে (পার্থিব বিষয়ে সুদক্ষ হওয়ার কারণে) বলা হবেঃ লোকটি কত সাবধান, সুচতুর, স্বাস্থ্যবান ও বুদ্ধিমান। অথচ তার মধ্যে সর্ষের দানা পারিমাণও ঈমান খুঁজে পাওয়া যাবে না। [বর্ণনাকারী হুযাইফা (রা) বলেনঃ] আজ আমি এমন এক যুগে উপনীত হয়েছি যে, কার সাথে লেন-দেন বা বেচা-কেনা করছি তার কোন বাছ-বিচার নেই। কেননা, সে যদি মুসলমান হয় তবে সে তার দ্বীন ও ঈমানের কারণে আমার হক আদায় করবে। অন্যদিকে সে যদি খৃস্টান বা ইহুদী হয় তবে তার দায়িত্ববোধ আমার হক তার কাছ থেকে আদায় করে দেবে। আজ আমি তোমাদের কারোর সাথে (নির্বিচারে) কেনা-বেচা করবো না, তবে অমুক অমুক ব্যক্তির সাথে করবো। (বুখারী ও মুসলিম)


২০১. হযরত হুযাইফা ও হযরত আবু হুরাইরা বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ মহিমাময় আল্লাহ (কিয়ামতের দিন) সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। তখন ঈমানদার লোকেরা উঠে দাঁড়াবে এবং জান্নাতকে তাদের কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে। এ অবস্থায় তারা আদি পিতা আদম (আ)-এর কাছে গিয়ে নিবেদন করবেঃ হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দিন। তিনি বলবেনঃ তোমাদের পিতার অপরাধই তো তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেছে। কাজেই আমি এর দরজা খোলার উপযুক্ত নই। ‘তোমরা আমার পুত্র ইবরাহীম খলিলুল্লাহ্‌র কাছে যাও।’ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর তারা ইবরাহীম (আ)-এর কাছে যাবে। তিনি [ইবরাহীম (আ)] বলবেনঃ ‘আমি এ দায়িত্ব পালনের যোগ্য নই।’ আমি শুধু বিনয়ী অর্থেই খলিল ছিলাম (কার্যত আমি এ মহান গৌরবের যোগ্য নই)।   তোমরা বরং মূসা (আ)-এর কাছে যাও; তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন। এরপর সবাই হযরত মূসা (আ)-এর কাছে ছুটে যাবে। তিনিও বলবেনঃ আমি এর যোগ্য নই; তোমরা ঈসা (আ)-এর কাছে যাও। তিনি হচ্ছেন আল্লাহর কালেমা এবং রুহুল্লাহ হিসেবে ভাগ্যবান। হযরত ঈসা (আ) বলবেনঃ জান্নাতের দরজা খোলার মতো যোগ্যতা তো আমার নেই। অবশেষে সবাই হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কাছে ছুটে আসবে। তিনি (মহান খোদার উদ্দেশ্যে) দণ্ডায়মান হবেন। তাঁকে (শাফ’আত করার) অনুমতি দেয়া হবে। আমানত ও দয়াশীলতা পুলসিরাতের ডান-বাম দুদিকে দাঁড়িয়ে যাবে। তোমাদের প্রথম দলটি বিদ্যুৎ বেগে পুলসিরাত অতিক্রম করবে। আমি (হুযাইফা কিংবা আবু হুরাইরা) বললেনঃ (হে আল্লাহর রাসূল!) আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! বিদ্যুৎ বেগে অতিক্রম করার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ তোমরা কি দেখনি যে, চোখের পলকের মধ্যে বিদ্যুৎ আসে আবার তা চলে যায়? এরপর পালাক্রমে অন্যান্য দল বাতাসের গতিতে, পাখির গতিতে এবং দ্রুত দৌড়ানোর গতিতে পুলসিরাত অতিক্রম করবে। এ পার্থক্য তাদের কাজকর্ম বা আমলের কারণে ঘটবে। এ সময় তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুলসিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে আবেদন করতে থাকবেনঃ ‘প্রভু হে! (আমাদের ওপর) শান্তি বর্ষণ করুন, শান্তি বর্ষণ করুন।’

এভাবে অনেক বান্দা নেক কাজের পরিমাণ কম হওয়ায় সামনে এগুতে ব্যর্থ হবে। ফলে তারা পাছা ঘষতে ঘষতে সামনে এগুতে থাকবে। পুলসিরাতের উভয় দিকে কিছু লোহার আঁকড়া ঝুলানো থাকবে। যাকে পাকড়াও করার নির্দেশ দেয়া হবে, এগুলো তাকেই পাকড়াও করবে। তবে যার গায়ে শুধু আঁচড় লাগবে, সে রেহাই পাবে আর বাকী সবাইকে দোযখে ছুঁড়ে ফেলা হবে। বর্ণনাকারী (আবু হুরাইরা) বলেনঃ ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! দোযখের গভীরতা সত্তর বছরের পথের দূরত্বের সমান। (মুসলিম)


২০২. হযরত আবু খুবাইব আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা) বর্ণনা করেনঃ জঙ্গে জামালা বা উষ্ট্রের যুদ্ধের দিন (৩৬ হিজরী) হযরত যুবাইর (রা) যখন যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হয়ে আমায় কাছে ডাকলেন, আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, তিনি বললেনঃ যে আমার পুত্র! আজ জালিম কিংবা মজলুমের কেউ না কেউ মারা যাবেই। আমার মনে হচ্ছে, আজ আমি মজলুম অবস্থায় মারা যাবো। (সে কারণে আমি আমার ঋণ সম্পর্কে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তোমার কি মনে হয়, আমার ঋণ পরিশোধের পর কিছু মাল-সামান উদ্বৃত্ত থাকবে? এরপর তিনি বললেনঃ‘হে আমার পুত্র! তুমি আমার ধন-মাল বিক্রি করে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও। এরপর তিনি এক-তৃতীয়াংশ মালের ওপর এই মর্মে অসিয়ত করলেন যে, এটা তার পুত্রদের জন্য নির্ধারিত। (অর্থ্যাৎ আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের পুত্রদের জন্যে এক-নবমাংশ)।   তিনি (যুবাইর) বললেনঃ ঋণ পরিশোধের পর যদি কিছু মাল অবশিষ্ট থাকে, তবে তার এক-তৃতীয়াংশ তোমার ছেলেদের জন্য।

বর্ণনাকারী হিশাম বলেনঃ আবদুল্লাহর কোন কোন পুত্র যুবায়েরের পুত্র খুবায়েব ও আব্বাদের সমবয়সী ছিল। এ সময় যুবায়েরের ৯ পুত্র ও ৯ কন্যা বর্তমান ছিল। আবদুল্লাহ বলেনঃ তিনি (পিতা যুবায়ের) বরাবরই আমাকে তাঁর দ্বীনের কথা বলতেন। একদিন তিনি বলেনঃ ‘হে পুত্র! তুমি যদি এ ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম না হও তাহলে তুমি আমার প্রভুর (আল্লাহর) কাছে এটা শোধ করার জন্য সাহায্য চেয়ো। আবদুল্লাহ বলেন আল্লাহর কসম! আমি বুঝিতে পারছিলাম না যে, তিনি ‘প্রভু’ বলে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন। তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে পিতা! আপনি প্রভু বলে কাকে বুঝাতে চাইছেন? তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ।’ আবদুল্লাহ বলেন, আমি যখনই তার ঋণ পরিশোধে অসুবিধায় পড়ে যেতাম তখনই বলতামঃ ‘হে যুবায়েরের প্রভু! তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দাও।’ মহান আল্লাহ এ দো’আ কবুল করলেন এবং পিতার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিলেন।

আবদুল্লাহ বলেনঃ যুবায়ের যখন শহীদ হলেন তখন তিনি কোন নগদ অর্থ (দিনার ও দিরহাম) রেখে যাননি। তবে কিছু স্থাবর সম্পত্তি তিনি রেখে যান। তা হলোঃ গাবা নামক এলাকায় কিছু জমি, মদীনায় ১১টি ঘর, বসরায় ২টি ঘর, কুফায় ১টি ঘর এবং মিশরে ১টি ঘর। আবদুল্লাহ বলেনঃ তার ঋণগ্রস্ত হওয়ার কারণ ছিলো। কোন লোক যদি তার কাছে কিছু আমানত রাখতে আসত, তিনি বলতেনঃ আমি কারো আমানত রাখি না; তবে এটা তোমার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে নিলাম। কেননা, আমানত হিসেবে রাখলে হয়ত এটা আমার হাতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, তিনি (যুবায়ের) কখনো কোন প্রশাসনিক পদে অথবা ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্বে কিংবা অন্য কোন দায়িত্বে নিযুক্ত হননি। আসলে তিনি কোন পদ-পদবী পছন্দ করতেন না। তবে তিনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর, উমর (রা) ও উসমান (রা) এর সাথে জিহাদে অংশ নিয়েছেন। আবদুল্লাহ বলেন আমি তার সমস্ত ঋণের হিসাব করলাম। তার মোট পরিমাণ দঁড়ালো ২২ লাখ দিরহাম। হাকীম ইবনে হিযাম আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের সাথে সাক্ষাত করে জিজ্ঞেস করলেনঃ ভ্রাতুস্পুত্র! আমার ভাইয়ের মোট ঋণের পরিমাণ কত? আমি (আবদুল্লাহ) আসল পরিমাণটা চেপে গিয়ে বললামঃ ‘১ লাখ দেরহাম।’ এরপর হাকিম বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমার তো এ বিরাট ঋণ পরিশোধ করার মতো মাল-সামান নেই। আবদুল্লাহ বললেনঃ যদি ঋণের পরিমাণ ২২ লাখ দেরহাম হয় তবে অবস্থা কি দাঁড়াবে? হাকীম বললেনঃ তাহলে আমার ধারণা অনুসারে এটা পরিশোধ করতে তুমি মোটেই পারবে না। কাজেই ঋণ পরিশোধে কোনরূপ সমস্যা দেখা দিলে তুমি অবশ্যই আমার শরনাপন্ন হয়ো।

আবদুল্লাহ বলেনঃ যুবায়ের গাবার জমিটা এক লাখ সত্তর হাজার দিরহামে কিনেছিলেন। আবদুল্লাহ সেটাকে ১৬ লাখ দিরহামে বিক্রি করে দিলে। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেনঃ যুবায়েরের কাছে যার পাওনা রয়েছে সে যেন গাবা নামক স্থানে এসে আমাদের সাথে সাক্ষাত করে। এই ঘোষণার পর আবদুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রা) এসে বললেনঃ যুবায়েরের কাছে আমার চার লাখ দিরহাম পাওনা আছে। কিন্তু তোমরা যদি চাও তবে সেটা আমি ছেড়ে দিতে পারি। আবদুল্লাহ বলেনঃ না (আমি দাবি ছাড়িয়ে নিতে চাই না) তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে জাফর) বললেনঃ তোমরা যদি এটা পরিশোধের জন্য সময় চাও আমি তা দিতে প্রস্তুত। আবদুল্লাহ বললেনঃ না, (আমি সময় চাই না)।  তিনি (ইবনে জাফর) বললেনঃ ‘তবে জমির একটা অংশ আমায় আলাদা করে দাও।’ আবদুল্লাহ বললেনঃ ‘তুমি এখান থেকে ঐ পর্যন্ত জমি নিজ দখলে নিয়ে যাও।’ অতঃপর তিনি জমি বিক্রি করে তার (যুবায়েরের) ঋণ পরিশোধ করে দিলেন। এরপরও জমির সাড়ে চারটি খণ্ড বাকি ছিল।

এরপর আবদুল্লাহ মু’আবিয়ার কাছে এলেন। এ সময় তার কাছে ‘আমর ইবনে উস্‌মান, মুনযির ইবনে যুবায়ের ও ইবনে যাম’আহ উপস্থিত ছিলেন। মু’আবিয়া তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি গাবার জমির কি মূল্য স্থির করেছো? তিনি বললেনঃ প্রতি খণ্ড এক লাখ দিরহাম। মু’আবিয়া আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ কয় খণ্ড জমি অবশিষ্ট আছে? তিনি বললেনঃ সাড়ে চার খণ্ড। মুনযির ইবনে যুবায়ের বললেনঃ আমি এক খণ্ড জমি এক লাখ দিরহামে কিনে নিলাম।’ আমর ইবনে উমসান বললেনঃ আমিও এক খণ্ড জমি এক লাখ দিরহামে কিনে নিলাম।’ মু’আবিয়া জিজ্ঞেস করলেনঃ এখন আর কতটুকু জমি বাকী আছে? তিনি বললেন দেড় খণ্ড (বাকী আছে)।  তিনি বললেনঃ আমি তা দেড়লাখ দিরহামে কিনে নিলাম।

বর্ণনাকারী বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তার পাওনা বাবদ যে অংশটুকু কিনেছিলেন তা আবার তিনি মু’আবিয়ার কাছে চার লাখ দিরহামে বিক্রি করে দিলেন। যুবায়েরের অন্যান্য ছেলেরা তাকে বললেনঃ এখন আমাদের উত্তরাধিকার (মিরাস) আমাদের মাঝে বন্টন করে দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! উপর্যুপরি চার বৎসর হজ্জ মৌসুমে এই ঘোষণা প্রচার না করা পর্যন্ত আমি তোমাদের মাঝে উত্তরাধিকার বন্টন করবো না। যুবায়েরের কাছে যার পাওনা রয়েছে, সে যেন আমাদের কাছে আসে। আমরা তা পরিশোধ করে দেব।’ এভাবে তিনি এক নাগাড়ে চার বছর পর্যন্ত সমাবেশে এই ঘোষণা প্রচার করলেন। চার বছর পূর্ণ হওয়ার পর তিনি ভাইদের মাঝে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ভাগ বন্টন করলেন এবং এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি (অসিয়তের মাল হিসেবে) আলাদা করে রাখলেন। উল্লেখ্য, যুবায়েরের চার স্ত্রী ছিলেন। প্রত্যেক স্ত্রীর ভাগে বার লাখ দিরহাম করে পড়ল। যুবায়েরের সম্পত্তি আনুমানিক ছিল পাঁচ কোটি দু’লাখ দিরহাম। (বুখারী)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?