হজ্ব ফরয হওয়া এবং এর গুরুত্ব

 হজ্জ

হজ্জ ফরয হওয়া এবং তার ফযীলত

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“আর যারা বায়তুল্লাহ যাওয়ার সামর্থ রাখে তাদের উপর হজ্জ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত ফরয। আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করবে, (সে তার ফল পাবে) আল্লাহ সৃষ্টি জগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।” (সূরা আলে ইমরানঃ ৯৭)

 

১২৭২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ পাঁচটি বিষয়ের ওপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছেঃ একথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর রাসূল, নামাযা কায়েম করা, যাকাত দেয়া, বায়তুল্লাহর হজ্জ করা এবং রমযানের রোযা রাখা। (আহমাদ, বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী)


১২৭৩. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন আমাদের সামনে ভাষণ দেন। তাতে তিনি বলেনঃ হে লোকেরা! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ্জ ফরয করেছেন। অতএব তোমরা হজ্জ কর। এক ব্যক্তি বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! প্রত্যেক বছরই? তিনি চুপ করে রইলেন। এমনকি ঐ ব্যক্তি পর পর তিনবার বললো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ যদি আমি ‘হ্যাঁ’ বলে দিতাম, তবে তোমাদের ওপর প্রতি বছর হজ্জ ফরয হয়ে যেতো, অথচ এটা পালন করার শক্তি তোমাদের থাকতো না। তারপর তিনি বললেনঃ যে বিষয় আমি তোমাদেরকে ছেড়ে দিই, তোমরাও আমাকে ছেড়ে দিয়ো। কারণ তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা অত্যধিক প্রশ্ন করার ও নিজেদের নবীদের ব্যাপারে মত বিরোধের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। অতএব যখন আমি তোমাদেরকে কোন কিছুর হুকুম দেই, তোমাদের সামর্থ অনুযায়ী তা পালন কর। আর যখন কোন কাজ করতে নিষেধ করি, তা থেকে বিরত থাক। (মুসলিম)


১২৭৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সা) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কাজটি সর্বাপেক্ষা উত্তম? তিনি জবাব দিলেনঃ “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।” বলা হলোঃ তারপর কোন্ কাজটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” বলা হলোঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ মাবরুর (মাকবুল) হজ্ব। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৭৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি হজ্জ করে, তার মধ্যে বাজে কথা বলে না এবং কোন গুনাহর কাজও করে না, সে নিজের গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত ও পাক-পবিত্র হয়ে ফিরে আসে, তার মা তাকে সে দিনই প্রসব করেছে সে দিনের মত। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৭৬. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ এক উমরা থেকে আরেক উমরা পর্যন্ত সময়ের মাঝখানে যা (গুনাহ) হয়েছে তার জন্য কাফফারা হয়। আর মাবরুর (মকবুল) হজ্জের প্রতিদান হচ্ছে একমাত্র জান্নাত। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৭৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা তো দেখছি জিহাদই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, তাহলে আমরা জিহাদ করবো না? তিনি বললেনঃ কিন্তু (তোমাদের জন্য) মাবরূর (মকবুল) হজ্বই হচ্ছে উত্তম জিহাদ। (মুসলিম)


১২৭৮. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আরাফাতের দিন অপেক্ষা বেশি (সংখ্যায়) আর কোন দিন আল্লাহ তা’আলা বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। (মুসলিম)


১২৭৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সা) বলেছেনঃ রমযান মাসে উমরা করা হজ্জের সমান। অথবা (বলেছেন) আমার সাথে হজ্ব করার সমান। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৮০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। জনৈকা মহিলা বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর হজ্ব ফরয করেছেন। কিন্তু আমি দেখছি আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি সাওয়ারীর পিঠে ঠিকমত বসে থাকতে সক্ষম নন। তাঁর পক্ষ থেকে কি আমি হজ্জ করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করতে পার। (বুখারী ও মুসলিম)


১২৮১. হযরত লাকীত ইবনে আমির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করীম (সা)-এর নিকট এসে বললেনঃ আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ। তাঁর হজ্ব ও উমরা করার এবং এজন্য সফর করতেও সক্ষম নন। তিনি বললেনঃ তুমি নিজের পিতার পক্ষ থেকে হজ্ব ও উমরা কর। (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)


১২৮২. হযরত সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে হজ্ব করানো হয়েছে। সে সময় আমার বয়স সাত বছর। (বুখারী)


১২৮৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেনঃ) রাওহা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে এক কাফেলার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেনঃ তোমরা কোন দল? তারা বললোঃ আমরা মুসলমান। তারা বললঃ আপনি কে? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাসূল! একথা শুনে এক মহিলা তার বাচ্চাকে ওপরে উঠিয়ে বললোঃ এরও কি হজ্ব হবে। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, হবে, তবে সাওয়াব পাবে তুমি। (মুসলিম)


১২৮৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) রাসূলুল্লাহ (সা) একটি বাহনের ওপর হজ্ব করেন আর সেটি তাঁর মালবাহীও ছিল। (বুখারী)


১২৮৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জাহিলিয়াতের যুগে উকায, মাজিন্নাহ ও যুল-মাজায ছিল ব্যবসা কেন্দ্র। (যখন ইসলামের যুগ শুরু হলো)লোকেরা হজ্বের মওসুমে ঐ তিনটি বাজারে ব্যবসা করা গুনাহ মনে করতে লাগলো। তখন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হলোঃ

“তোমরা (হজ্জের মওসুমে) তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ (হালাল রিযিক) সন্ধান করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই।” (সূরা বাকারাঃ১৯৮)

(বুখারী)


 

Was this article helpful?

Leave A Comment?