সচ্চরিত্রের বর্ণনা

[Note: এ অধ্যায়ের কুরআনের আয়াত গুলো পরে আপডেট করা হবে]

 

৬২১. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ছিলেন মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। (বুখারী, মুসলিম)


৬২২. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হাতের তালুর চাইতে অধিক নরম ও মোলায়েম কোন পশমী ও রেশমী কাপড় স্পর্শ করিনি। কোন সুগন্ধিও আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর (শরীরের) সুগন্ধির চাইতে অধিকতর সুগন্ধিময় পাইনি। আমি দীর্ঘ দশ বছর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমত করেছি। কিন্তু তিনি কখনো আমার প্রতি উহ শব্দও উচ্চারণ করেননি। আমার কোন কৃতকর্মের জন্য তিনি কখনো বলেননি যে, কেন তুমি এটা করলে এবং কোন কর্তব্য কর্ম না করার জন্যও বলেননি, কেন তুমি এটা করলে না। (বুখারী, মুসলিম)


৬২৩. সা’ব ইবনে জাস্‌সামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কে আমি একটি জংলী গাধা হাদিয়াস্বরুপ দিলাম। তিনি সেটি আমাকে ফেরতে দিলেন। তিনি আমার চেহারায় মলিনতার ছাপ লক্ষ্য করে বলেনঃ আমরা ইহরাম অবস্থায় রয়েছি বলেই গাধাটি ফেরত দিয়েছি। (বুখারী, মুসলিম)


৬২৪. নাওয়াস ইবনে সাম’আন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ পুণ্য হচ্ছে উত্তম চরিত্র এবং গুনাহ হচ্ছে, যা তোমার অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করে এবং লোকে তা জেনে ফেলুক এটা তুমি অপছন্দ কর। (মুসলিম)


৬২৫. আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) প্রকৃতিগতভাবে অশ্লীলতা পছন্দ করতেন না এবং তিনি অশ্লীলভাষীও ছিলেন না। তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে উৎকৃষ্ট লোক তারাই, যাদের চরিত্র সর্বোৎকৃষ্ট। (বুখারী, মুসলিম)


৬২৬. আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ কিয়ামতের দিন মু’মিন বান্দার আমলনামায় সচ্চরিত্রের চাইতে অধিকতর ভারী আর কোন আমলই হবে না। বস্তুত আল্লাহ অশ্লীলভাষী ও নিরর্থক বাক্যে ব্যয়কারী বাচালকে ঘৃণা করেন।

ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


৬২৭. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ জিনিস লোকদের অধিক হারে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেনঃ তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ও সচ্চরিত্র। তাঁকে আরোও জিজ্ঞাসা করা হল, কোন্ জিনিস লোকদেরকে অধিক হারে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেনঃ মুখ ও লজ্জাস্থান।

ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


৬২৮. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ ঈমানের দিক থেকে সর্বাধিক কামিল মু’মিন সেই ব্যক্তি যার চরিত্র সর্বোৎকৃষ্ট। তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম লোক তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে সর্বোত্তম আচরণকারী।

ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


৬২৯. আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ মু’মিন ব্যক্তি অবশ্যই তার সুন্দর স্বভাব ও সচ্চরিত্র দ্বারা দিনে রোযা পালনকারী ও রাত জেগে ইবাদতকারীর মর্যাদা হাসিল করতে পারে। (আবু দাঊদ)


৬৩০. আবু উমামা আল-বাহিলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আমি এমন লোকের জন্য জান্নাতের পাশ্ববর্তী এক ঘরের যামিন যে প্রদর্শনী ও প্রসিদ্ধ লাভ পরিত্যাগ করে, যদিও সে তার অধিকারী। আমি এমন লোকের জন্য জান্নাতের মধ্যস্থলে অবস্থিত ঘরের যামিন যে ঠাট্টাচ্ছলেও মিথ্যা ও মিথ্যাচারকে পরিহার করে। আমি জান্নাতের শীর্ষস্থানে অবস্থিত একটি ঘরের যামিন এমন লোকের জন্য যে তার চরিত্র কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে।

এ হাদীসটি সহীহ। আবু দাঊদ এটিকে সহীহ সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।


৬৩১. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্য থেকে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও সবচেয়ে নিকটে উপবিষ্ট হবে সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো। কিয়ামতের তোমাদের মধ্য থেকে আমার নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য ও আমার থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী হবে সেইসব লোক যারা কথাবার্তায় কৃত্রিমতার আশ্রয় নেয়, কথার মাধ্যমে অহংকার প্রকাশ করে এবং যারা মুতাফাইহিকূন। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কৃত্রিমভাবে বাক্যালাপকারী ও কথার মাধ্যমে অহংকার প্রকাশকারীর অর্থ তো বুঝলাম, কিন্তু ‘মুতাফাইহিকূন’ কারা? তিনি বলেনঃ অহংকারী ব্যক্তিরা।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি হাসান হাদীস। আস-সারসারু বলতে ঐ লোককে বোঝায়, যে অত্যধিক কৃত্রিমভাবে কথাবার্তা বলে থাকে। আল-মুতাশাদ্দিক ঐ লোককে বলে যে নিজের কথার দ্বারা অন্যের উপর নিজের প্রাধান্য ও বড়াই প্রকাশ করে এবং কথাবার্তা বলার সময় নিজের কথার বিশুদ্ধতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করে থাকে। ফাইহাকু শব্দটি ‘ফাহকুন’ ধাতু থেকে নির্গত। এর অর্থ মুখ ভর্তি করা বা পূর্ণ করা। কাজেই ‘আল-মুতাফাইহিক’ বলতে ঐ লোককে বোঝায় যে মুখ ভর্তি করে কথা বলে এবং তাতে বাড়াবাড়ি করে, চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলে এবং নিজের অহংকার ও আভিজাত্যের বহিঃপ্রকাশের উদ্দেশ্যে লম্বা কথা বলে।

ইমাম তিরমিযী (র) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (র) থেকে সচ্চরিত্রের ব্যাখ্যা নকল করেছেন। তাতে তিনি বলেন, সচ্চরিত্র হল, হাসি-খুশি মুখ, সত্য-ন্যায়কে অবলম্বন করা এবং অন্যকে কোনরূপ কষ্ট দেয়া থেকে বেঁচে থাকা ইত্যাদি।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?