সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর

সকাল এবং সন্ধ্যায় কিছু আযকার –

১। আয়াতুল কুরসী…

এর ফাদীলাত- ‘যে সকালে পাঠ করবে তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিনদের থেকে রক্ষা করা হবে, যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে তাকে সকাল পর্যন্ত রক্ষা করা হবে।’১৩৬

২। ইখলাস, ফালাক্ব এবং সুরা নাস..

এর ফাদীলাত- যে সকাল এবং সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে তা তার জন্য সব কিছুর ব্যাপারে যথেষ্ট হবে।১৩৭

৩। সহীহ তারগীব ওয়াত তাহরীবে রয়েছে-

অর্থঃ ‘হে চিরঞ্জীন, হে চিরস্থায়ী, তোমার রহমতের জন্য আমি তোমার দরবারে জানাই আমার সকাতর নিবেদন। তুমি আমার অবস্থা সংশোধন করে দাও, তুমি চোখের পলক পরিমাণ সময়ের (এক মূহুর্তের) জন্যেও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না।’
১৩৯

৪। সহীহ মুসলিমে রয়েছে-

অর্থঃ ‘আমরা এবং সমগ্র জগত আল্লাহর (ইবাদত ও আনুগত্যের) জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, আর সমুদয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক; তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
হে রব্ব! এই রাতের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু মঙ্গল নিহিত আছে আমি তোমার নিকট তার প্রার্থণা করছি। আর এই রাতের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু অমঙ্গল নিহিত আছে, তা হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। হে রব্ব! আলস্য এবং বার্ধক্যেও কষ্ট হতে আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করি, হে রব্ব! দোযখের আযাব হতে এবং কবরের আযাব হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি।’১৪১
সন্ধ্যায় َِِّﻟﻠہ ُكْلُمْلا َحَبْصَأَو اَنْحَبْصَأ এর স্থলে َِِّﻟﻠہ ُكْلُمْلا اَنْيَسْمَأ ىَسْمَأَو পাঠ করবে।

৫। সুনান আবু দাউদ এবং তিরমিজির১৪২ মধ্যে রয়েছেঃ

সকালে বলবেঃ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমারই অনুগ্রহে সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং তোমারই অনুগ্রহে প্রতুষে উপনীত হই। তোমারই মর্জিতে জীবিত রয়েছি, তোমারই ইচ্ছায় মৃত্যু বরণ করি, আর তোমারই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’

সন্ধ্যায় বলবেঃ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমারই অনুগ্রহে প্রতুষে উপনীত হই এবং তোমারই অনুগ্রহে সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমারই মর্জিতে জীবিত রয়েছি, তোমারই ইচ্ছায় মৃত্যু বরণ করবো, আর তোমারই দিকে কিয়ামত দিবসে উত্থিত হয়ে সমবেত হবো।’ ১৪৩

সকালে ওয়া ইলাইকাল নুশুর এর স্থলে ওয়া ইলাইকাল মাছি-র বলবে।

৬। সুনানে ইবনে মাজাহর মধ্যে রয়েছে-

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী ইলম, পবিত্র জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থণা করি।’১৪৪
রয়েছে সকালে পাঠ করবে।১৪৫

৭। সুনান আত তিরমিজি এবং অন্যান্যতে রয়েছে-

অর্থঃ ‘আল্লাহর পূর্ণ গুণাবলীর বাক্য দ্বারা তাঁর নিকট আমি অনিষ্টকর সৃষ্টির অপকার থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’
সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে।১৪৬

৮। সুনান আবু দাউদে রয়েছে-

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! (তোমার অনুগ্রহে) সকালে উপনীত হয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমার এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমার আরশে বহনকারীদের এবং তোমার সকল ফেরেশতাদের ও তোমার সকল সৃষ্টির। নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই, তুমি এক, তোমার কোন শরীক নেই। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার বান্দাহ এবং রসূল।’

সকাল-সন্ধ্যায় চারবার করে পাঠ করবে।১৪৭

এর ফাদীলাতের মধ্যে রয়েছে-

যে সকালে চারবার অথবা সন্ধ্যায় চারবার পাঠ করবে আল্লাহ তাকে আগুন থেকে মুক্তি দিবেন।

এর স্থলে সন্ধ্যায় বলবে

৯। সুনান আবু দাউদ এবং মুসনাদ আহমাদের মধ্যে রয়েছে-

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার দেহের নিরাপত্তা দান করো, আমার কর্ণেও নিরাপত্তা দান করো, আমার চোখের নিরাপত্তা দান করো। আল্লাহ তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কুফরী এবং দারিদ্র হতে, আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব হতে। তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই।’

তিনবার পাঠ করবে।১৪৮

১০। অনুরূপ হাদীস এ রয়েছে।১৪৯

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কুফরী এবং দারিদ্র হতে, আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব হতে। তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই।’

তিনবার পাঠ করবে।

উপরের দু্টি দো’আ এক বর্ণনাতে এসেছে, এগুলো আলাদাভাবে এসেছে, একটি দো’আ হিসেবে আসেনি। এগুলো সন্ধ্যায় এবং সকালে প্রত্যেকটি তিনবার করে পাঠ করা হবে।

১১। সহীহ বুখারীতে-

যে এটি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে পাঠ করবে তার ফাদীলাতের মধ্যে রয়েছে, সে যদি রাতে মারা যায় তাহলে জানড়বাতে প্রবেশ করবে; অনুরূপভাবে সে যদি দিনে পাঠ করে মারা যায় তাহলে সে জানড়বাতে প্রবেশ করবে, যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

১২। আহমাদ তার মুসনাদে বর্ণনা করেন- ১৫১

 

অর্থঃ ‘(আল্লাহর অনুগ্রহে) আমরা প্রত্যুষে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিৎরাতের উপর ও ইখলাসের উপর, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীনের উপর, আমাদের পিতা ইব্রাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতের উপর, তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।’

১৩। আন নাসায়ীতে-

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমার সাথে যে নিয়ামত প্রাপ্তাবস্থায় কেউ সকালে উপনীত হয়েছে, অথবা তোমার সৃষ্টির মাঝেও কারো সাথে, এসব নিয়ামত তোমার নিকট হতে। তুমি এক, তোমার কোন শরীক নেই, প্রশংসা মাত্র তোমার। আর সকল প্রকার কৃতজ্ঞতার হকদার তুমি।’

১৪। সুনানে আবু দাউদে-

অর্থঃ ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট তিনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি, তিনি মহান আরশের প্রতিপালক।’
সাতবার।১৫৩

যে এটি পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে সকাল এবং সন্ধ্যায় সাতবার পাঠ করবে তার ফাদীলাত হচ্ছে-আল্লাহ তার জন্য দুনিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এবং দ্বীনের (আখিরাতের) বিষয়ে যথেষ্ট হবেন।

১৫। সুনানে আবু দাউদ এবং অন্যান্যতে রয়েছে-

অর্থঃ ‘আমি সেই আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি, যার নামে শুরু করলে আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই কোনরূপ অনিষ্ট সাধন করতে পারে না। বস্তুত তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।’

তিনবার পাঠ করবে।১৫৪

সকাল এবং সন্ধ্যায় যে এটি পাঠ করবে তার উপকারিতা হচ্ছে কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

১৬। সুনানে আবু দাউদ এবং মুসনাদে আহমাদ এ রয়েছে-

 

অর্থঃ ‘আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী রূপে লাভ করে সন্তুষ্ট।’

তিনবার পাঠ করবে।১৫৫

সকাল এবং সন্ধ্যায় যে এটি পাঠ করবে তার উপকারিতা হচ্ছে ইয়াওমুল ক্বিয়ামাহতে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবেন।

১৭। সহীহ মুসলিমে রয়েছে-

অর্থঃ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি।’

দিনে একশতবার।১৫৬

১৮। সহীহ মুসলিমে রয়েছে-

অর্থঃ ‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের সংখ্যায় সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান ও তাঁর বাণী সমূহের লিখার কালি পরিমাণ অসংখ্যবার।’

তিনবার পাঠ করবে।১৫৭

১৯। সহীহ মুসলিমে রয়েছে-

অর্থঃ ‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর প্রশংসা সহকারে।’

একশতবার।১৫৮

সকাল এবং সন্ধ্যায় যে এটি একশতবার পাঠ করবে তার উপকারিতা হচ্ছে, বিচার দিবেসে সে যা নিয়ে আসবে তার চেয়ে বেশী নিয়ে কেহই আসবে না, ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তার মতই পাঠ করছে অথবা তার চেয়ে বেশী পাঠ করেছে।

এর অন্য উপকারিতা হচ্ছে- এটি তার গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেবে যদিও তা সাগরের ফেনার পরিমাণ হয়।১৫৯

২০। সহীহ বুখারী এবং মুসলিমে রয়েছে-

অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।’

দিনে একশতবার।১৬০

যে একশতবার পাঠ করবে তার যে আযর রয়েছে তা হচ্ছে-

* ১০ জন দাসকে মুক্ত করা,
* ১০০ নেক আমল তার জন্য লিখিত হবে,
* ১০০ পাপ মুছে দেয়া হবে এবং
* ঐ দিনে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপত্তা পাবে।

২১। সহীহ কালিমুত তাইয়্যেব এ রয়েছে- ১৬১

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই জান। আকাশ ও পৃথিবীর তুমি সৃষ্টিকর্তা। তুমি সব বস্তুর প্রতিপালক এবং সমস্ত কিছুর মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। আমি আমার প্রবৃত্তির অনিষ্ট হতে আর শয়তান এবং তার শিরকের অনিষ্ট হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করছি। আমি নিজের অনিষ্ট হতে এবং কোন মুসলিমের অনিষ্ট করা হতে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি।’

লক্ষ্যনীয়ঃ-

# যখন একটি দো’আ উল্লেখ করা হবে তখন একটি সুনড়বাহ বাস্তবায়িত হবে। একজন মুসলিমের উচিত সকাল সন্ধ্যায় এই পাঠ করা যাতে সে যতটুকু সম্ভব সুনড়বাহকে বাস্তবায়ন করতে পারে।

# এটা প্রয়োজনীয় যে যখন একজন এই দো’আগুলো পাঠ করবে তখন তা করবে ইখলাস, ছিদক এবং এগুলোর প্রতি পূর্ন বিশ্বাস রেখে। চেষ্টা করুন এগুলোর অর্থের দিকে খেয়াল করতে যেন তা আপনার জীবন, নৈতিকতা এবং আচার আচরনে প্রতিμিয়া ফেলে।

দো’আগুলোর মানে আপনারা সহজেই হিসনুল মুসলিম থেকে দেখে নিতে পারেন।

 

 

 


১৩৬ সহীহ তারগীব ওয়াত তাহরীব হা/৬৬২।
১৩৭ আবু দাউদ হা/১৫২২, আত তিরমিজি হা/৩৫৭৫
১৩৮ সহীহ তারগীব ওয়াত তাহরীব হা/৬৫৭।
১৩৯ তারগীব-তাহরীব ১/২৭
১৪০ মুসলিম হা/২৭০৩।
১৪১ বুখারী- ৭/১৫০
১৪২ সুনান আবুদাউদ হা/৫০৬৮ এবং তিরমিজি হা/৩৩৯১।
১৪৩ তিরমিজি- ৫/৪৬৬
১৪৪ ইবনে মাজাহ
১৪৫ সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৯২৫।
১৪৬ সুনান আত তিরমিজি হা/৩৬০৫, ইবনে মাজাহ হা/৩৫১৮।
১৪৭ সুনান আবু দাউদ হা/৫০৬৯ এবং ৫০৭৮।
১৪৮ সুনান আবু দাউদ হা/ ৫০৯০ এবং মুসনাদ আহমাদ হা/২০৪৩০।
১৪৯ সুনান আবু দাউদ হা/ ৫০৯০ এবং মুসনাদ আহমাদ হা/২০৪৩০।
১৫০ সহীহ বুখারী হা/৬৩০৬।
১৫১ মুসনাদে আহমাদ হা/১৫৩৬০।
১৫২ আন নাসায়ী হা/৭।
১৫৩ সুনানে আবু দাউদ হা/৫০৭১।
১৫৪ সুনানে আবু দাউদ হা/৫০৮৮, আত তিরমিজি ৩৩৮৮ এবং ইবনে মাজাহ হা/৩৮৬৯।
১৫৫ সুনানে আবু দাউদ হা/৫০৭২, আত তিরমিজি হা/৩৩৯৮ এবং মুসনাদে আহমাদ ১৮৯৬৭।
১৫৬ সহীহ মুসলিম হা/২৭০২।
১৫৭ সহীহ মুসলিম হা/২৭২৬।
১৫৮ সহীহ মুসলিম হা/২৯৬২।
১৫৯ সহীহ বুখারী হা/৬৪০৫।
১৬০ সহীহ বুখারী হা/৩২৯৩ এবং মুসলিম হা/২৬৯১।
১৬১ সহীহ কালিমুত তাইয়্যেব, হা/২১।

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?