রমযানের রোযা ফরয এবং রোযার গুরুত্ব ও তার আনুসঙ্গিক বিষয় সমূহ

রমযানের রোযা ফরয এবং রোযার গুরুত্ব ও তার আনুসঙ্গিক বিষয় সমূহ

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর।”

এখানথেকে নিন্মোক্ত আয়াত পর্যন্ত

“এই রমযান মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা সমগ্র মানব জাতির জন্য জীবন-যাপনের বিধান এবং তা এমন সুস্পষ্ট উপদেশাবলিতে পরিপূর্ণ, কাজেই আজ থেকেই যে ব্যক্তি এ মাসের সম্মুখীন হবে, তার জন্য এই পূর্ণ মাসের রোযা রাখা একান্ত কর্তব্য, আর যদি কেউ অসুস্থ হয় কিংবা সফরে থাকে তাহলে সে যেন অন্য দিনগুলোতে এই রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে নেয়।” এই আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (সূরা বাকারাঃ ১৮৩-১৮৫)

এই সম্পর্কিত বেশির ভাগ হাদীস আগের পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

১২১৬. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, বনী আদমের প্রত্যেকটি আমল তার নিজের জন্য, রোযা ব্যতীত। কারণ তা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান। আর রোযা হচ্ছে (গুনাহ থেকে) ঢাল স্বরূপ। অতএব তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে সে যেন বাজে কথা না বলে, চেঁচামেচি না করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে তাহলে তার বলা উচিত, আমি রোযাদার। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর কসম, রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধ। রোযাদারের দু’টি খুশি যা সে লাভ করবে। একটি হচ্ছে, সে ইফতারের সময় খুশি হয়। আর দ্বিতীয় আনন্দটি সে লাভ করবে যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাত করবে, তখন সে তার রোযার কারণে আনন্দিত হবে।  (বুখারী ও মুসলিম)

এখানে সহীহ বুখারীর মূল পাঠ দেয়া হয়েছে। ইমাম বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ রোযাদার আমারই কারণে তার আহার, পানীয় ও যৌন কামনা ত্যাগ করেছে। রোযা আমার জন্য এবং আমি তার প্রতিদান দিবো। আর (অন্য) নেকীগুলির সাওয়াব দোষ গুণ হবে। ইমাম মুসলিম এক বর্ণনায় বলেছেন, বনী আদমের প্রতিটি আমলের সাওয়াব বাড়ানো হয়, এক নেকীর সাওয়াব দোষ গুণ থেকে সাতশো গুণ পর্যন্ত হয়। মহান আল্লাহ বলেনঃ তবে রোযা ব্যতীত (রোযার সাওয়াবের কোন সীমা নেই)।   কারণ রোযা হচ্ছে আমার জন্য এবং আমি তার প্রতিদান দিবো। রোযাদার আমার জন্যই যৌন কামনা ও আহার ত্যাগ করে। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দ। একটি আনন্দ হচ্ছে ইফতারের সময়। আর দ্বিতীয় আনন্দটি হবে তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। তার মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চাইতেও সুগন্ধিযুক্ত।


১২১৭. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি জোড়া (কোন বস্তু) দান করবে তাকে জান্নাতের দরজা থেকে এই বলে ডাকা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা! এই যে এই দরজাটি তোমার জন্য ভালো! কাজেই নামাযীদেরকে নামাযের দরজা থেকে ডাকা হবে। মুজাহিদদেরকে ডাকা হবে জিহাদের দরজা থেকে। রোযাদারদেরকে ডাকা হবে ‘রাইয়ান’ দরজা থেকে। সাদকা দাতাদেরকে সাদাকার দরজা থেকে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক মুখ একথা শুনে) হযরত আবু বকর (রা) বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার বাপ-মা আপনার ওপর কুরবান হোক, কোন ব্যক্তি কে সবগুলো দরজা থেকে ডাকার যদিও কোন প্রয়োজন নেই তবুও কাউকে কি ঐ সবগুলো দরজা থেকে ডাকার হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমি তাদের মধ্যে একজন হবে।   (বুখারী ও মুসলিম)


১২১৮. হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ জান্নাতের একটি দরজা আছে। তাকে বলা হয় ‘রাইয়ান’। কিয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে একমাত্র রোযাদাররা প্রবেশ করবেন। তাঁরা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। যখন তারা সবাই ভিতরে প্রবেশ করবেন তখন এ দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। তারপর এই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)


১২১৯. হযরত আব সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি রোযা রাখবে, তার এই একটি দিনের বদৌলতে আল্লাহ তার চেহারাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন। (বুখারী ও মুসলিম)


১২২০. হযরত আবু হুরাইরা (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে ও সাওয়াব লাভের আশায় রমযানের রোযা রাখে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম)


১২২১. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানের আবদ্ধ করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)


১২২২.  হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর। আর যদি মেঘের আড়ালের কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে শাবান মাস তিরিশ দিন পূর্ণ কর। (বুখারী ও মুসলিম)

আর এখানে সহীহ বুখারীর মূল পাঠ দেয়া হয়েছে। মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ যদি তোমাদের উপর মেঘে ছেয়ে যায় তাহলে তিরিশ দিন রোযা রাখো।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?