পরিবার-পরিজনের প্রতি সদাচরণ করার বিবরণ

পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ

মহান আল্লাহ বলেনঃ

সন্তানের পিতাকে ন্যায়ানুগভাবে মায়েদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করতে হবে। (সূরা আল বাকারাঃ ২৩৩)

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ

‘স্বচ্ছল ব্যক্তি নিজের স্বচ্ছলতা অনুসারে ব্যয়ভার বহন করবে। আর যাকে কম রিযিক দেয়া হয়েছে, সে তার সেই মাল থেকে ব্যয় করবে, যা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে যতটা সামর্থ্য দিয়েছেন, তার চেয় বেশি ব্যায় করার দায়িত্ব তিনি তার ওপর ন্যস্ত করেন না। (সূরা আত তালাকঃ ৭)

 

২৮৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা)-এর বর্ণনা মতে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ একটি দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছো, একটি দীনার তুমি কৃতদাস মুক্ত করার জন্যে ব্যয় করেছো, একটি দীনার মিসকিনকে দান করেছো এবং একটি দীনার পরিবারের লোকদের জন্যে ব্যয় করেছো। এসব দীনারের মধ্যে যেটি তুমি নিজ পরিবারবর্গের জন্য ব্যয় করেছো, প্রতিদান লাভের দিক দিয়ে সেটি তোমার জন্যে সবচেয়ে উত্তম। (মুসলিম)


২৯০. রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাকৃত গোলাম আবু আবদুল্লাহ অথবা আবু আবদুর রহমান ইবনে সাওবান ইবনে বুহদুদ (রা) বর্ণনা করেনঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সবচেয়ে উত্তম দীনার হলো তা, যা কোন ব্যক্তি তার নিজ পরিবারবর্গের জন্য ব্যয় করে। যা আল্লাহর প্রতি জিহাদের উদ্দেশ্যে লালিত ঘোড়ার জন্য ব্যয় করে এবং যা আল্লাহর পথে স্বীয় বন্ধুদের জন্য ব্যয় করে। (মুসলিম)


২৯১. হযরত উম্মে সালামা (রা) বর্ণনা করেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি আবু সালামার বাচ্চাদের জন্য ব্যয় করি, তবে তাতে কি আমি কোন সওয়াব পাবো? আমি তাদেরকে কোনভাবেই ত্যাগ করতে পারছি না।  কেননা, তারা আমারও সন্তান। তিনি (রাসূল) বললেনঃ হাঁ, তুমি তাদের জন্য যা কিছু ব্যয় করছো, তাতে তোমার জন্য প্রতিফল রয়েছে।  (বুখারী ও মুসলিম)


২৯২. হযরত সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আল্লাহর সন্তোষ লাভের জন্য তুমি যে খরচই করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি, তোমার স্ত্রীর মুখে যে গ্রাসটি তুমি তুলে দিচ্ছো, তারও। (বুখারী ও মুসলিম)


২৯৩. হযরত আবু মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি সওয়াব পাওয়ার আশায় আপন পরিবারবর্গের জন্য যা ব্যয় করে, তা তার জন্য সাদকা রূপে গণ্য হবে। (বুখারী ও মুসলিম)


২৯৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে আস (রা)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কোন ব্যক্তি কারো রিযিকের মালিক হলে তার সে রিযিক ধ্বংস করে দেয়াই তার গুনাহগার হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এ হাদীসটি সহীহ। ইমাম আবু দাউদ ও অন্যরা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমও একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা রিযিকের মালিকের হয় তার এ রিযিক সে আটকে রাখে।


২৯৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বান্দার সকাল হলেই দু’জন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়। তাদের একজন বলেনঃ হে আল্লাহ! খরচকারীকে যথোচিত বিনিময় দান করো। অন্যজন বলেনঃ হে আল্লাহ! কৃপণের ধন নষ্ট করে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)


২৯৬. হযরত আবু হুরাইরা (রা)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নীচের হাতের চেয়ে ওপরের হাত (অর্থ্যাৎ দান গ্রহণকারীর চেয়ে দাতার হাত) শ্রেয়তর। নিকটাত্মীয়দের (পোষ্যদের) থেকে দান-খয়রাত শুরু করা বিধেয়। আর্থিক স্বচ্ছল অবস্থায় দান-খয়রাত করা উত্তম। যে ব্যক্তি নেককার হতে ইচ্ছুক, আল্লাহ তাকে নেকবখ্‌ত করে দেন। যে ব্যক্তি স্বনির্ভর হতে ইচ্ছুক, আল্লাহ তাকে স্বনির্ভর করে দেন। (বুখারী)


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?