চলা, অবতরণ করা, রজনী অতিবাহিত করা ও ভ্রমণে নিদ্রা যাবার শিষ্টচার এবং রজনীতে চলা, পশুর প্রতি কোমল ব্যবহার করা ও তাদের সুযোগ-সুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি নিজের অধিকার পুরোপুরি আদায় করে না তাকে তা পুরোপুরি আদায় করার তাকিদ দেয়া এবং সওয়ারী পশু শক্তিশালী সাওয়ারীর পিঠে নিজের সাথে অপর কাউকে বসানোর বৈধতা

৯৬৩. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমরা শ্যামলাচ্ছাদিত ভূমিতে সফর করলে, উটকে জমিতে তার অংশ দেবে, (চরতে দিবে) আর অনুর্বর ও অনাবাদী জমিতে সফর করার সময় দ্রুত সফর করবে, যাতে তাদের শক্তি অক্ষুণ্ন থাকে। রাতযাপন করতে চাইলে চলাচলের পথ থেকে দূরে থাকবে। কারণ রাতে চলাফেরার পথ দিয়ে চতুষ্পদ জন্তুরা চলাচল করে এবং সেখানে রাতে কীট ও সরীসৃপের আবাস।   (মুসলিম)


৯৬৪. হযরত কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে অবস্থান করতেন, তখন তিনি ডান কাতে শয়ন করতেন। আর যখন সকাল হবার পূর্ব মুহূর্তে কোথাও অবস্থান করতেন, তখন নিজের হাত খাড়া করে হাতের তালুর ওপর মাথা রাখতেন। (মুসলিম)


৯৬৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ “তোমরা রাতে সফর করা নিজেদের জন্য অপরিহার্য করে নাও। কারণ রাতে যমীনকে গুটিয়ে নেয়া হয়।” (আবু দাঊদ উত্তম সনদে)


৯৬৬. হযরত সা’লাবা আল-খুশানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ লোকেরা (সফর অবস্থায়) কোন মঞ্জিলে অবতরণ করলে, (সাধারণতঃ) গিরিপথ বা উপত্যকাগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়তো। (এ অবস্থা দেখে ) রাসূলূল্লাহ (সা) বললেন, “এসব গিরিপথ ও উপত্যকাগুলোতে তোমাদের বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়া শয়তানের কারসাজি।” এরপর থেকে সাহাবায়ে কেরাম কোথাও অবতরণ করলে তাঁরা পরস্পর মিলেমিশে থাকতেন।  (আবু দাউদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)


৯৬৭. হুরত সাহল ইবনে আমর, আর কেউ বলেন, তিনি ‘সাহল ইবনে রাবী’ ইবনে আমর আনসারী, যিনি ইবনুল হানযালিয়াহ নামে প্রসিদ্ধ এবং তিনি বাইয়াতুর রিদওয়ান-এর অন্তর্ভুক্ত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন উটের পাশ দিয়ে গেলেন। উটটির পিঠ তার পেটের সাথে ঠেকে গিয়েছিল (অনাহারের কারণে) তিনি বললেনঃ এ বাকশক্তিহীন পশুদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। কাজেই সুস্থ ও সবল অবস্থায় এদের পিঠের সওয়ার হও এবং এদেরকে সুস্থ অবস্থায় আহার কর। (আবু দাঊদ )


৯৬৮. আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে তাঁর পিছনে সহযাত্রী করলেন এবং আমার কানে একটি কথা বললেন। কথাটি আমি কাউকে বলবো না। আর বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার সময় যে জিনিস দ্বারা পর্দা বা আড়াল করা পছন্দ করতেন তা হল দেয়াল বা খেজুরের ডাল বা ঝোপ। (মুসলিম)

ইমাম মুসলিম এভাবে সংক্ষেপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইমাম বারকানী ইমাম মুসলিমের এই সনদ সহকারে ‘হায়েশু নাখলিন’ শব্দ দু’টির পর নিম্নোক্ত বাক্যগুলো বর্ণনা করেছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা) আনসারদের এক ব্যক্তির বাগানে প্রবেশ করলেন। সেখানে ছিল একটি উট। উটটি রাসূলুল্লাহ (সা) কে দেখার সাথে সাথেই তার মুখ থেকে আওয়াজ বের হয়ে গেল এবং চোখ দু’টি থেকে ঝর ঝর করে পানি পড়তে লাগলো। নবী করীম (সা) তার কাছে এলেন এবং তার কাঁধ ও মাথার পেছনের অংশে হাত বুলালেন। এতে উটটি শান্ত হল। তিনি বললেনঃ উটটির মালিক কে? উটটি কার? এক আনসারী যুবক এগিয়ে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আমার। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তোমাকে এ পশুটির মালিক বানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? কারণ সে আমার কাছে নালিশ করেছেঃ তুমি তাকে ভুখা রাখ এবং তাকে দিয়ে বেশি বোঝা বহন করাও।


৯৬৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সফরে আমরা কোন মনযিলে অবতরণ করলে হাওদা না খোলা পর্যন্ত নামায পড়তাম না।  (আবু দাঊদ )


ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী আবু দাঊদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর তার কথা ‘লা নুসাব্বিহ’ শব্দটির অর্থ নফল নামায পড়তাম না। অর্থাৎ এ হাদীসটির অর্থ হচ্ছেঃ নফল নামায পড়ার প্রতি আমাদের অত্যধিক লোভ থাকা সত্ত্বেও হাওদা খোলা এবং বাহনের পশুদের আরাম পৌঁছানোকে আমরা নামাযের ওপর অগ্রাধিকার দিতাম।

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?