অযূর গুরুত্ব সমূহ

ওযূর ফযীলত

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।” (সূরা মায়েদাঃ ৬)

 

১০২৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কে আমি বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মাতকে কিয়ামতের দিন “গুররান মুহাজ্জালীন” -উজ্জ্বল কপাল ও শুভ্র অংশের (কপাল চাঁদা) অধিকারী বলে ডাকা হবে। ওযু করার সময় যে সব অঙ্গ ধোয়া হয় সেখান থেকেই এর নিদর্শন ফুটে বের হবে। কাজেই তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি নিজের ঔজ্জ্বল্য বাড়াবার ক্ষমতা রাখে তার তা করা উচিত। (বুখারী ও মুসলিম)


১০২৬. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ “মু’মিনের সৌন্দর্য সে পর্যন্ত পৌঁছবে যে পর্যন্ত তার ওযুর পানি পৌছবে।”  (মুসলিম)


১০২৭. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওযু করে এবং খুব ভালোভাবে ওযু করে তার শরীর থেকে সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়।   (মুসলিম)


১০২৮. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে ওযু করতে দেখলাম যেমন আমি ওযু করছি ঠিক এমনিভাবে। তারপর তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি এভাবে ওযু করবে তার পুর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর তার নামায ও মসজিদ পর্যন্ত আসা নফল (বাড়তি সওয়াব) হবে। (মুসলিম)


১০২৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যখন মুসলিম বা মু’মিন বান্দা ওযু করার সময় তার মুখমণ্ডল ধোয় পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুটির সাথে তার চেহারা থেকে সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায়, যেগুলোর দিকে সে তার চোখ দু’টির সাহায্যে দৃষ্টিপাত করেছিল। তারপর যখন সে তার দু’ হাত ধোয়, পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার দু’ হাত থেকে সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায় যা তার হাত দু’টি ধরে ছিল। এরপর যখন সে তার দু’ পা ধোয়, তখন পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার গুনাহ বের হয়ে যায়, যার দিকে তার দু’ পা এগিয়ে গিয়েছিল, এমনকি সে গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ পাকসাফ হয়ে যায়।    (মুসলিম)


১০৩০. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) কবরস্থানে এসে বলেছেনঃ “আসসালামু আলাইকুম দারা কাওমিম মু’মিনীন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লা-হিকূন”-হে মু’মিনদের আবাসস্থলের অধিবাসীরা, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক আর আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব।” আমার হৃদয়ের একান্ত ইচ্ছে ছিল আমাদের ভাইদেরকে দেখব। সাহাবা কিরাম (রা) জিজ্ঞেস করলঃ ইয়া রাসূলু্‌ল্লাহ! আমরা কি আপনার ভাই নই? জবাব দিলেনঃ তোমরা আমার সাথী আর আমার ভাই হচ্ছে তারা যারা এখনো দুনিয়ায় আসেনি। সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসূলু্‌ল্লাহ! আপনার উম্মাতের যে সব লোক এখনো আসেনি তাদের আপনি কিভাবে চিনবেন? তিনি জবাব দিলেনঃ দেখ, যদি কোন ব্যক্তির সাদা কপাল ও সাদা পা-ওয়ালা ঘোড়া অন্য কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে থাকে তাহলে কি তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? সাহাবায়ে কিরাম (রা) বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! কেন পারবে না? নিশ্চয়ই পারবে! তিনি বললেনঃ তাহলে কিয়ামতের দিন তারা এমন অবস্থায় আসবে যখন ওযুর প্রভাবে তাদের কপাল ও হাত-পা থেকে ঔজ্জ্বল্য ঠিকরে পড়তে থাকবে এবং আমি তাদের আগেই হাউযে (কাওসার) পৌঁছে যাব।    (মুসলিম)


১০৩১. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের সে জিনিসটির খবর দেব না যার সাহায্যে আল্লাহ গুনাহ মুছে ফেলবে এবং যার মাধ্যমে তোমাদের মর্যাদা উন্নত করবেন? সাহাবা কিরাম (রা) আরয করলেন, নিশ্চয়ই, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে, কষ্টের মধ্যেও পরিপূর্ণভাবে ওযূ করা, মসজিদের দিকে অধিক পদক্ষেপ করা এবং এক নামাযের পর আর এক নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এটিই তোমাদের কর্তব্য কাজ। এটিই তোমাদের কর্তব্য কাজ। (মুসলিম)


১০৩২. হযরত আবু মালিক আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ “পবিত্রতা অর্জন করা হচ্ছে ঈমানের অধ্যাংশ।” (মুসলিম)


১০৩৩. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ওযু করে পরিপূর্ণভাবে অথবা (তিনি বলেছেন) যথাযথভাবে তারপর বলে, “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু” তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সেগুলোর যেটির মধ্য দিয়ে ইচ্ছে সে জান্নাতের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে। (মুসলিম)

আর ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায় অতিরিক্ত আছেঃ “আল্লাহুম্মাজআলনী মিনাত্ তাওয়াবীনা ওয়াজআলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন (হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং অত্যধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের মধ্যে শামিল করুন।


 

Was this article helpful?

Related Articles

Leave A Comment?